চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: জয় চক্রবর্তী, কলকাতা: খাদ্য নমুনা পরীক্ষার জন্য আরওঅট তিনটে স্থায়ী পরীক্ষাগার তৈরি করতে উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। গোটা রাজ্যে এই মুহূর্তে তিনটি স্থায়ী খাদ্য পরীক্ষাগার রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ভ্রাম্যমান খাদ্য পরীক্ষাগার। কিন্তু খাদ্যের নমুনা পরীক্ষার চাহিদার কথা ভেবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আরও তিনটে স্থায়ী পরীক্ষাগার তৈরীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
[আরও পড়ুন: মায়ের ‘কু’কীর্তি, ছেলেকে খুন করে আত্মসমর্পণ]
নবান্ন সূত্রে খবর, বর্ধমান, মালদা এবং মেদিনীপুরে তিনটি স্থায়ী খাদ্য পরীক্ষাগার হবে। নবান্নের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানালেন, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের কাছে জমি খোঁজার জন্য বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, পরীক্ষাগার তৈরীর আগে যাবতীয় রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা স্বাস্থ্য দফতরকে বলা হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে আরও তিনটে স্থায়ী খাদ্য পরীক্ষাগার চাইছে রাজ্য সরকার।
নবান্নের এক শীর্ষ কর্তা জানালেন, খাবারের নমুনা সংগ্রহের জন্য লোকবল যেমন প্রয়োজন তেমনি চাহিদার কথা ভেবে তাই পরীক্ষাগার দরকার। তার জন্যেই আরও তিনটে স্থায়ী খাদ্য পরীক্ষাগারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যা দ্রুত কার্যকর হবে। এখন গোটা রাজ্যে তিনটে স্থায়ী খাদ্য পরীক্ষা রয়েছে। কলকাতার এন্টালি ও শিলিগুড়িতে রয়েছে স্থায়ী খাদ্যের নমুনা পরীক্ষাগার।
এছাড়া কলকাতা পুরসভার নিজস্ব খাদ্য পরীক্ষাগার রয়েছে। নবান্নের উচ্চপদস্থ আধিকারিকের মতে, এই তিনটে পরীক্ষাগার যথেষ্ট নয়। তার জন্য বিভিন্ন জেলায় ভ্রাম্যমান পরীক্ষাগার রয়েছে। কিন্তু তারপরেও চাহিদা যথেষ্ট। ভেজাল খাবার নির্ণয়ের ক্ষেত্রে তাই আরও তিনটে স্থায়ী পরীক্ষাগার তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার সহ বেশ কিছু জেলায় ভ্রাম্যমান খাদ্য পরীক্ষাগার রয়েছে। আবার দশটির বেশি জেলায় কোন খাদ্য পরীক্ষাগার নেই।
এই সমস্ত জেলার ক্ষেত্রে অন্য জেলার ভ্রাম্যমান খাদ্য পরীক্ষাগারের ওপর নির্ভর করতে হয়। সেই কারণে স্থায়ী পরীক্ষাগারের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে নবান্ন। কলকাতা পুরসভার ১৪৪ টা ওয়ার্ডের জন্য পুরসভা নিজস্ব খাদ্য পরীক্ষাগার রয়েছে নিউমার্কেটে। দুই চব্বিশ পরগনা ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলাতে ভ্রাম্যমান খাদ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা থাকার পরেও কলকাতার এন্টালির স্থায়ী খাদ্য পরীক্ষাগারে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সমস্ত জেলার জন্য ভেজাল খাদ্য নির্ণয়ের কাজ চলে।
[আরও পড়ুন: পুলিশি তদন্তেই সিলমোহর, প্রকৃত জাস্টিস পাওয়ার দিনে কোথায় তাঁরা?]
আবার দার্জিলিং সহ উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলাতে ৫০ লক্ষ টাকার ভ্রাম্যমান ভেজাল খাবার পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও শিলিগুড়িতে অবস্থিত স্থায়ী খাদ্য পরীক্ষাগার রয়েছে। এরপরেও রাজ্য সরকার চাইছে ভেজাল খাদ্য নির্ণয়ের জন্য আরও তিনটে স্থায়ী খাদ্য পরীক্ষাগার। আর সেই কারণেই বর্ধমান, মালদা এবং মেদিনীপুরে তিনটি স্থায়ী খাদ্য পরীক্ষাগার হবে।