চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: তামিলনাড়ুতে বিজয়‘রথ’। রাজনীতির ময়দানে আত্মপ্রকাশ করে এবং প্রথম বার নির্বাচন লড়ে তাঁর দল কী করবে, সে দিকে নজর ছিল সারা দেশের। প্রথম বার নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেই বৈতরণী পার করেছেন তামিল সুপারস্টার থলপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগম (টিভিকে)। এরপরেই মুখ খুললেন এবার মুখ খুললেন এক বুথ ভোটসমীক্ষা সংস্থার প্রধান প্রদীপ গুপ্ত। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিজয়ের জয়ের পূর্বাভাস দেওয়ার পর তাঁদের নিয়ে রাজনৈতিক মহল এবং অন্যান্য সমীক্ষা সংস্থা হাসাহাসি করেছিল। প্রদীপ গুপ্ত বলেন, দেশজুড়ে কেউ বিশ্বাসই করতে চাইছিল না। সবাই বলছিল এটা ফ্লুক। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক থেকে শুরু করে অন্য ভোটসমীক্ষা সংস্থাগুলোও আমাদের নিয়ে হাসছিল, কারণ আমরা তামিলনাড়ুতে বিজয়ের জয় এভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলাম।
এবারের নির্বাচনে অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া একমাত্র সংস্থা, যারা বুথ ফেরত সমীক্ষায় টিভিকে-কে এগিয়ে রেখেছিল। সংস্থাটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, নতুন দল হয়েও টিভিকে পেতে পারে ৯৮ থেকে ১২০টি আসন। বাস্তবে ভোট গণনার একাধিক রাউন্ড শেষে দেখা যাচ্ছে, ১০০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে টিভিকে, যা তামিল রাজনীতিতে কার্যত বড়সড় চমক বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। প্রদীপ গুপ্ত দাবি করেন, এটা ডেটা সায়েন্সের জয়। তাঁর বক্তব্য, অন্য সংস্থাগুলো মাঠের বাস্তব পরিস্থিতি ধরতে ব্যর্থ হয়েছে কারণ তারা সব কেন্দ্রে ধারাবাহিকভাবে সমীক্ষা চালায় না। তিনি বলেন, আমরা সবসময় সব আসনে গিয়ে কাজ করি। তাই মাটির তলার মুড আমরা ধরতে পেরেছি।
অন্যদিকে, ডিএমকে জোটকে অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া আগে ৯২ থেকে ১০০টি আসন এবং ৩৫ শতাংশ ভোট শেয়ার দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। তবে প্রদীপ গুপ্ত জানান, বর্তমান ট্রেন্ড অনুযায়ী ডিএমকে-এর ভোটশেয়ার রয়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ। একইভাবে টিভিকে-এর ক্ষেত্রেও সংস্থা ৩৫ শতাংশ ভোটশেয়ার অনুমান করেছিল, যা এখনও পর্যন্ত প্রায় একই জায়গায় রয়েছে বলে দাবি তাঁর। এআইএডিএমকে জোটের ক্ষেত্রে সংস্থাটি ২৩ শতাংশ ভোটশেয়ার পূর্বাভাস দিলেও বর্তমানে তাদের ভোটশেয়ার প্রায় ২৭ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানান প্রদীপ গুপ্ত।
তিনি আরও বলেন, তিনি প্রায় নিশ্চিত যে মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনের ডিএমকে দ্বিতীয় স্থানে এবং এডাপ্পাদি কে পালানিস্বামীর এআইএডিএমকে তৃতীয় স্থানে শেষ করবে।
টিভিকে-এর ভালো ফলের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রদীপ গুপ্ত জানান, মূলত তরুণ প্রজন্মের সমর্থনই বিজয়ের দলকে এগিয়ে দিয়েছে। তাঁর দাবি, ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সি ভোটারদের মধ্যে টিভিকে অত্যন্ত ভালো ফল করবে বলে তারা আগেই অনুমান করেছিল। এই বয়সি ভোটাররা তামিলনাড়ুর মোট ভোটারের প্রায় ৪২ শতাংশ। এছাড়াও, ৪০ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যেও টিভিকে ভালো স্কোর করেছে বলে দাবি তাঁর। এই বয়সি ভোটাররা মোট ভোটারের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। প্রদীপ গুপ্ত জানান, মহিলা ভোটারদের মধ্যেও টিভিকে যথেষ্ট শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। তাঁর মতে, টিভিকে-এর পরে সবচেয়ে বেশি মহিলা ভোট টিভিকে পেয়েছে। সব মিলিয়ে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে টিভিকে-এর এই উত্থান নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।