ad
ad

Breaking News

Samik Bhattacharya

“পশ্চিমবঙ্গে টাটা ফিরবেই”, বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

এই ইতিবাচক আবহের মধ্যেই ফের হুগলির সিঙ্গুরে টাটা শিল্পগোষ্ঠীকে ফিরিয়ে আনার এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বড় বার্তা দিলেন শমীক ভট্টাচার্য।

tata-group-singur-comeback-bengal-industrialization

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: ২০২৬ সালের ঐতিহাসিক বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার মহা-পরিবর্তনের পর, নতুন বিজেপি সরকার এখন পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নকে মূল পাখির চোখ করেছে। এই ইতিবাচক আবহের মধ্যেই ফের হুগলির সিঙ্গুরে টাটা শিল্পগোষ্ঠীকে ফিরিয়ে আনার এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বড় বার্তা দিলেন শমীক ভট্টাচার্য। বাম আমলে সিঙ্গুরে ন্যানো গাড়ির কারখানা তৈরির জন্য টাটারা এলেও, তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র জমি আন্দোলনের জেরে শেষপর্যন্ত ২০০৮ সালের ৩ অক্টোবর তারা রাজ্য ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তৃণমূল আমলে কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দেওয়া হলেও, সিঙ্গুরের সেই জমি আজও সম্পূর্ণ চাষযোগ্য হয়ে ওঠেনি বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের হাত ধরে সিঙ্গুরের বুকেই কি ফের টাটাদের প্রত্যাবর্তন ঘটতে চলেছে? শমীক ভট্টাচার্যের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতি ও শিল্পমহলে এই জল্পনা এখন তুঙ্গে।

শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, “আমরা চাই টাটারা ফিরে আসুক এবং সিঙ্গুরেই ফিরে আসুক। আমরা গোটা দেশ তথা বিশ্বের দরবারে এই জোরালো বার্তা দিতে চাই যে, পশ্চিমবঙ্গ এখন সম্পূর্ণভাবে বিনিয়োগবান্ধব এবং যে কোনও বড় বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।” রাজনৈতিক মহলের মতে, যদি টাটাকে ফের সিঙ্গুরের মাটিতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়, তবে প্রায় দুই দশক আগে ন্যানো প্রকল্প গুজরাটে সরে যাওয়ায় দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলার যে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছিল, তা একঝটকায় মুছে ফেলা সম্ভব হবে। শমীক ভট্টাচার্য আরও যোগ করেন, টাটারা এ রাজ্যে অটোমোবাইল কিংবা অন্য যে কোনও সেক্টরেই বিনিয়োগ করতে আসুক না কেন, সরকার তাঁদের সব রকম সহযোগিতা করবে।

সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক হ্যান্ডেলেও বাংলার যুবসমাজ ও শিল্প নিয়ে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে টাটা ফিরবেই… ২০০৮ সালে একরাশ আক্ষেপ নিয়ে বাংলা ছেড়েছিলেন প্রয়াত প্রবাদপ্রতিম শিল্পপতি রতন টাটা। আজও বাংলার মানুষ সেই ঐতিহাসিক ক্ষত ভুলতে পারেননি। কারণ একটা বড় শিল্প চলে গেলে শুধু একটি কোম্পানি যায় না, তার সঙ্গে হারিয়ে যায় হাজার হাজার কর্মসংস্থান, থমকে যায় সামগ্রিক উন্নয়ন আর অন্ধকার নেমে আসে যুবসমাজের ভবিষ্যতের ওপর।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বিজেপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে শিল্পের বিকাশ ছাড়া বাংলার পুনরুত্থান সম্ভব নয়। তাই বাংলায় আবার টাটাকে ফেরানোর গুরুদায়িত্ব নিয়েছে নতুন সরকার। যে বাংলা একসময় শিল্পের গৌরবোজ্জ্বল কেন্দ্র ছিল, তাকেই আবার কর্মসংস্থানের প্রধান হাবে পরিণত করা হবে। টাটা ফিরলে রাজ্যে শিল্প ও চাকুরির জোয়ার আসবে এবং পশ্চিমবঙ্গ আবার দেশের বুকে শীর্ষস্থানে এগিয়ে যাবে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন তিনি।