চিত্রঃ নিজস্ব
Bangla Jago Desk: সৌতিক চক্রবর্তী, বোলপুর: শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী সোনাঝুরি হস্তশিল্পীদের হাট ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আইনি টানাপোড়েন। একদিকে পরিবেশ সংরক্ষণের দাবি, অন্যদিকে হাজার হাজার হস্তশিল্পী, কারিগর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবিকার প্রশ্ন—এই দুইয়ের সংঘাত এখন পৌঁছেছে জাতীয় পরিবেশ আদালত (এনজিটি)-এর দরজায়। সোনাঝুরি হাটের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন এনজিটির সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ। সম্প্রতি সোনাঝুরি হাটের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন হস্তশিল্পী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এনজিটির দ্বারস্থ হয়েছেন। আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন রাসিদুল মোল্লা, মহম্মদ আবদুল ফজল, সমাপ্তি দেবনাথ-সহ আরও কয়েকজন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নিয়ম মেনেই তাঁরা এই হাটে ব্যবসা করে আসছেন। কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের স্বীকৃত পরিচয়পত্র এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প এবং হস্তশিল্প দফতরের প্রয়োজনীয় নথিও তাঁদের কাছে রয়েছে।
আবেদনকারীদের বক্তব্য, সোনাঝুরি হাটকে অবৈধ বলে চিহ্নিত করার আগে তাঁদের বক্তব্য শোনার সুযোগ দেওয়া উচিত। তাঁদের দাবি, এই হাট শুধুমাত্র পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র নয়, বরং বহু মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। হস্তশিল্পী ও ব্যবসায়ীদের মতে, সোনাঝুরি হাটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন বহু কারিগর, বিক্রেতা ও স্থানীয় বাসিন্দা। পাশাপাশি পরিবহণ কর্মী, খাবারের দোকানদার, পর্যটন পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষও এই হাটের উপর নির্ভরশীল। ফলে হাট বন্ধ হয়ে গেলে এর প্রভাব পড়বে বহু পরিবারের উপর।
অন্যদিকে, পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্তের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর দাবি, বনদফতরের অধীনস্থ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম ভেঙে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ চলছে। এনজিটিতে করা আবেদনে তিনি অভিযোগ করেছেন, সোনাঝুরি বনাঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিত দোকান, চারচাকা গাড়ির অবাধ প্রবেশ, প্লাস্টিক ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব, গাছের ক্ষতি এবং স্থায়ী নির্মাণের কারণে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বর্তমানে এনজিটি দুই পক্ষের বক্তব্য, নথিপত্র ও অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। আদালতের সামনে এখন মূল প্রশ্ন—পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা মানুষের জীবিকা, এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় রাখা সম্ভব।
উল্লেখ্য, প্রায় দুই দশকেরও বেশি আগে খোয়াই অঞ্চলে স্থানীয় আদিবাসী শিল্পীদের উদ্যোগে ছোট পরিসরে শুরু হয়েছিল সোনাঝুরি হাট। পরে আশ্রমকন্যা শ্যামলী খাস্তগীরের উদ্যোগে এই হাট জনপ্রিয়তা পায়। ধীরে ধীরে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে এটি অন্যতম আকর্ষণের জায়গা হয়ে ওঠে।