চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গদি হারানোর পর আদি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের গ্রাফ যেন প্রতিদিন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে। একে একে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতি ঘনিষ্ঠ হেভিওয়েট নেতারাই যখন দিল্লির ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে নাম লিখিয়েছেন, ঠিক তখনই সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসতে চলেছে ঘাসফুলের যুব সংগঠনে। রাজনৈতিক মহলে জোর খবর, তৃণমূলের নবগঠিত কোর কমিটিতে যুব সভানেত্রীর দায়িত্ব পাওয়া যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষও (Saayoni Ghosh) নাকি ইতিমধ্যেই বিদ্রোহী সাংসদদের চিঠিতে নিজের সই সেরে ফেলেছেন! আর এই তীব্র টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই গত কয়েকদিন ধরে কার্যত ‘উধাও’ ছিলেন সায়নী। অবশেষে সমস্ত জল্পনায় ঘি ঢেলে বৃহস্পতিবার দুপুরে অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করলেন তিনি।
বাংলায় ক্ষমতার পালাবদলের পর তৃণমূলের পরিষদীয় ও সংসদীয় দলের রাশ এখন পুরোপুরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া। পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে যেতেই দলের যাবতীয় পুরনো কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গড়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আর এই চরম সংকটের মরশুমেও অভিষেক-ঘনিষ্ঠ সায়নী ঘোষের ওপর অন্ধ ভরসা রেখে তাঁকে যুব সভানেত্রীর পদে বহাল রেখেছিলেন মমতা। কিন্তু তার পর থেকেই রহস্যজনকভাবে বেপাত্তা হয়ে যান সায়নী।

জনসমক্ষে আসা তো দূর, দলের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোতেও তাঁর কোনও সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছিল না। নেত্রীর এমন ‘রহস্যময়’ আচরণে ক্ষোভে ফেটে পড়েন দলের নিচুতলার কর্মীরা। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটেই নেতারা প্রশ্ন তোলেন, “সায়নী আদতে কোন শিবিরে? তৃণমূলের সঙ্গে থাকলে তা স্পষ্ট করে জানান, আর বিদ্রোহীদের দলে গেলে সেটাও সামনাসামনি বলুন।” এই চ্যাট ফাঁস হতেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়।
এই তীব্র ডামাডোলের মাঝেই বৃহস্পতিবার দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল থেকে বের হতে দেখা যায় সায়নী ঘোষকে। তবে চেনা সায়নীর গ্ল্যামারাস অবতারের বদলে এদিন তাঁর রূপ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাজনৈতিক মহলের নজর এড়াতে মাথায় টুপি, চোখে চশমা আর মুখে বড়ো মাস্ক পরে, জিন্স ও টি-শার্টে কার্যত নিজেকে লুকিয়ে বিমানবন্দর থেকে বের হন তিনি।

সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা তাঁকে ঘিরে ধরে ‘শিবির বদল’ বা বিদ্রোহী গ্রুপে সই করা নিয়ে একের পর এক তির্যক প্রশ্ন ছুড়লেও, টু শব্দটিও করেননি যুবনেত্রী। কোনও প্রশ্নের জবাব না দিয়ে মাস্কের আড়ালেই মুখ লুকিয়ে সটান গিয়ে উঠে পড়েন নিজের গাড়িতে। সায়নীর এই রহস্যজনক নীরবতা এবং ছদ্মবেশ ধারণের পর রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সায়নী যে দিল্লির বিদ্রোহী ব্লকের দিকেই পা বাড়িয়ে রেখেছেন, তা এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।