চিত্রঃ সংগৃহীত
AK Bangla 24×7 Digital: নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানা ২৪ দিন ধরে আন্দোলনে উত্তাল ঝাড়খণ্ড। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলে পথে নেমেছেন রাজ্যের পড়ুয়ারা ও চাকরিপ্রার্থীরা। আন্দোলনকারীদের বিধানসভা অভিযান ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে চিঠি লিখলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি।
রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে ‘জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চ’-এর ব্যানারে লাগাতার বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের দ্রুত তদন্ত করতে হবে এবং স্বচ্ছ ভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।
ইতিমধ্যেই আন্দোলনের চাপে তিনটি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঝাড়খণ্ড সরকার। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। রবিবার সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীরা মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং রাহুল গান্ধির কুশপুতুল দাহ করেন। একই সঙ্গে হেমন্তের পদত্যাগের দাবিতেও সরব হয়েছেন তাঁরা।
এই আবহেই হেমন্ত সোরেনকে চিঠি দিয়েছেন রাহুল। চিঠিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারকে গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন কংগ্রেস নেতা। তিনি লিখেছেন, ভারতীয় সংবিধান শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার দিয়েছে। প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষা দুর্নীতির বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের আন্দোলনে কংগ্রেস বরাবরই সমর্থন জানিয়েছে। সেই কারণেই তিনি ব্যক্তিগত ভাবে হেমন্তকে অনুরোধ করেছেন, আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে তাঁদের বক্তব্য শুনতে।
চিঠিতে রাহুল আরও লিখেছেন, ‘‘ভারতের যুব সম্প্রদায় এ দেশের ভবিষ্যৎ। আমরা ওদের পাশে আছি এবং এই সঙ্কটের সময়ে ওদের সমর্থন করছি।’’ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের কথা শোনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করারও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
ঝাড়খণ্ডে হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন জেএমএম-কংগ্রেস জোট সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, বারবার দাবি জানানো হলেও সরকার যথাযথ পদক্ষেপ করছে না। পরিস্থিতির জেরে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে কংগ্রেসের উপর। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে পরীক্ষা দুর্নীতি নিয়ে সরব হলেও ঝাড়খণ্ডে জোটসঙ্গী সরকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও পড়ুয়াদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জের প্রতিবাদ করেছিলেন রাহুল গান্ধি। এ বার সরাসরি হেমন্তকে চিঠি লিখে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।