চিত্রঃ সংগৃহীত
AK Bangla Desk: প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া নেপালে পাঁচ দিন অতিক্রান্ত হলেও থামছে না মৃত্যুর মিছিল। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দলের হাতে উঠে আসছে সারিবদ্ধ মরদেহ। শেষ পাওয়া সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মহাপ্রলয়ে নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে ৯০৩ ছুঁয়েছে। এখনও প্রায় ৪,২০০-র বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এই নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয়ের মাঝেই চিনের বিরুদ্ধে উঠেছে তথ্য গোপনের গুরুতর অভিযোগ। কাঠমান্ডুর দাবি, তিন মাস আগে চিনের কাছে হিমবাহ ও আবহাওয়া সংক্রান্ত আগাম তথ্য চাওয়া হলেও বেজিং তা সরবরাহে চরম গাফিলতি করেছে।
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রাকৃতিক বিপর্যয় নামার তিন মাস আগে অর্থাৎ মে মাসে কাঠমান্ডুতে নেপাল ও চিনের আধিকারিকদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে চিনের তরফে তিব্বতের প্রতিনিধিরা হাজির ছিলেন। নেপালের ফ্লাড ফোরকাস্টিং ডিভিশনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সীমান্তে হিমবাহের জলস্তর, তুষারধস বা ভূমিস্খলনের আগাম সতর্কতা প্রতি ১০ মিনিট অন্তর চিনের কাছে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বেজিং শুধু সাধারণ বৃষ্টির পূর্বাভাস ছাড়া আর কোনও স্পর্শকাতর ভৌগোলিক ডেটা নেপালকে দেয়নি। এর ফলেই অতর্কিত হড়পা বানে এত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে অভিযোগ নেপালের আবহাওয়াবিদদের। যদিও চিন তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য আদানপ্রদানের দাবি করেছে।
এদিকে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। মৃতদেহের সংখ্যা এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে হাসপাতাল ও মর্গগুলিতে আর জায়গা নেই। গরমে পচন ধরে মারাত্মক রোগ সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় চিতওয়ানের দেবঘাট জঙ্গলে বিশাল এলাকা জুড়ে গণকবর খুঁড়ে লাশ কবর প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন।
গত দু’দিনে অন্তত ১৯৬টি অজ্ঞাতপরিচয় গলিত দেহ কবর দেওয়া হয়েছে। পচন ধরায় অধিকাংশ দেহই চেনার উপায় নেই। তবে ভবিষ্যতে স্বজনরা যাতে প্রিয়জনকে চিহ্নিত করতে পারেন, সেজন্য প্রতিটি মৃতদেহের বায়োলজিক্যাল ডিএনএ (DNA) নমুনা ও বিশেষ আইডেন্টিফিকেশন কোড সংরক্ষণ করে তার পরেই ১.৫ মিটার গভীর কবরে মাটিচাপা দেওয়া হচ্ছে। হিমালয়ের কোলে এমন মর্মান্তিক ও ভয়াবহ দৃশ্য আগে কখনও দেখা যায়নি।