চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: পর্যটন ক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছে বাংলা। রাজ্য সরকারের একাধিক উদ্যোগে মায়াপুর এখন দেশ ও বিদেশের আধ্যাত্মিক পর্যটনের ডেস্টিনেশন হয়ে উঠেছে। শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মভূমিতে নয়া সংযোজন শ্রীনাথপুরে শ্রী শ্রী গৌর-নিতাই মন্দির। প্রায় পাঁচ একর জমির উপর দেড় বছরের মধ্যে মন্দির নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নবদ্বীপ থেকে মাত্র ১০ কিমি দূরে ভাগিরথী ও জলঙ্গি নদীর সঙ্গমে গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের মহাতীর্থস্থান মায়াপুরে দেশ-বিদেশের ভক্ত সমাগম লেগেই থাকে (Mayapur)।
চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান এবং ইসকন প্রতিষ্ঠাতা প্রভুপাদস্বামীর মহাসমাধিস্থলে নির্মিত চন্দ্রোদয় মন্দির দর্শনের জন্য এখানে ভিড় করেন পুণ্যার্থীরা। এছাড়াও রয়েছে চৈতন্য মহাপ্রভূর পুণ্যস্মৃতি বিজড়িত নবদ্বীপের মন্দিররাজি ও ঘাট। এবার সংযোজিত হল শ্রীনাথপুরে শ্রী শ্রী গৌর-নিতাই মন্দির। গৌড়ীয় বৈষ্ণব অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে নবনির্মিত শ্রী শ্রী গৌর-নিতাই মন্দিরের উদ্বোধন হয় মকর সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে। গৌর-নিতাই মন্দির প্রতিষ্ঠা গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ভক্তরা। মন্দিরের তিন সেবক রাধারমন দাস, রাসবিহারী দাস ও বিশ্বকসেনা দাস জানান, গৌর-নিতাই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীল ভক্তি স্বরূপ তীর্থ মহারাজ প্রায় ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে সারা বিশ্বে ভগবানের বাণী প্রচার করে এসেছেন।
এই উপলক্ষে চারদিনব্যাপী নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভক্তি ও উৎসবের আবহে মন্দির চত্বর পরিণত হয় এক মহামিলনক্ষেত্রে। প্রায় পাঁচ একর জমির উপর দেড় বছরের মধ্যে মন্দির নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।মায়াপুর শুধু বাংলা বা ভারতের মধ্যে নয়, সারা বিশ্বের আধ্যাত্মিক পর্যটন ক্ষেত্রে পরিচিত নাম। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে মায়াপুরের সার্বিক উন্নয়ন ও বিকাশ সংঘটিত হয়েছে।
নতুন নতুন মন্দির গড়ে উঠছে মায়া করে। মায়াপুরের টানে ছুটে আসছেন দেশ-বিদেশের কৃষ্ণ ভক্তরা। অর্থনৈতিক দিক দিয়েও পর্যটনে এগিয়ে চলেছে বাংলা। আয়োজকদের মতে, এই নবপ্রতিষ্ঠিত মন্দির এবং এর সঙ্গে যুক্ত ধর্মীয় কার্যকলাপ আগামী দিনে এলাকার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মমতে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে ‘গৌর’ এবং তাঁর অন্তরঙ্গ সখা ও প্রধান পার্ষদ নিত্যানন্দ মহাপ্রভুকে ‘নিতাই’ নামে অভিহিত করা হয়। শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মস্থান মায়াপুরের সন্নিকটে এই গৌর-নিতাই মন্দির প্রতিষ্ঠা গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ভক্তরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আশপাশের এলাকা ছাড়াও রাজ্য ও রাজ্যের বাইরে থেকে অসংখ্য সাধু-সন্ত ও ভক্তের সমাগম ঘটে। প্রতিদিন পুজো, নামসংকীর্তন এবং দিনভর মহাপ্রসাদ বিতরণে অংশ নেন শত শত ভক্ত। সন্ধ্যায় বৃন্দাবনবাসীদের পরিবেশনায় ধর্মীয় নাটক দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলা এই অনুষ্ঠানে ভক্তিমূলক গান, কীর্তন ও নাটকের মাধ্যমে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ভাবধারাই ছিল মূল আকর্ষণ।
মন্দিরের তিন সেবক রাধারমন দাস, রাসবিহারী দাস ও বিশ্বকসেনা দাস জানান, গৌর-নিতাই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীল ভক্তি স্বরূপ তীর্থ মহারাজ প্রায় ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে সারা বিশ্বে ভগবানের বাণী প্রচার করে এসেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি লক্ষ্য করেছেন, ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে ভগবানের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা কমে যাচ্ছে। সেই বিশ্বাসকে পুনরুজ্জীবিত করতেই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থানের কাছে এই মন্দির প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
প্রায় পাঁচ একর জমির উপর দেড় বছরের মধ্যে মন্দির নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দু’দিকের সিঁড়ি বেয়ে দ্বিতীয় তলায় মন্দিরে উঠলে বাঁ দিকে প্রথমেই রয়েছে গুরুদেব শ্রীল ভক্তি স্বরূপ তীর্থ মহারাজের প্রতিকৃতি । এছাড়াও সেখানে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা, গৌর-নিতাই, নৃসিংহদেব, প্রহ্লাদ মহারাজ এবং নম ওম বিষ্ণুপাদ পরমহংস ১০৮ শ্রী শ্রীমদ ভক্তি শ্রীরূপ ভাগবত গোস্বামী মহারাজের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকদের মতে, এই নবপ্রতিষ্ঠিত মন্দির এবং এর সঙ্গে যুক্ত ধর্মীয় কার্যকলাপ আগামী দিনে এলাকার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। মায়াপুরের তীর্থমানচিত্রে এই গৌর-নিতাই মন্দির যে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল, সে বিষয়ে একমত ভক্তসমাজ।