চিত্রঃ নিজস্ব গ্রাফিক্স
Bangla Jago Desk: রাজ্যে নির্বাচনী উত্তাপে চড়ছে পারদ। পাহাড় থেকে সাগর সর্বত্রই নির্বাচনী প্রচারে ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষের সমর্থন পেতে মরিয়া সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর জেলায় জেলায় জনসংযোগে প্রার্থীরা। হুগলি জেলার শ্রীরামপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তন্ময় ঘোষ। এবারের নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছেন? নির্বাচিত হলে আগামী পাঁচ বছরে কোন কাজ গুলিকে অগ্রাধিকার দেবেন? খোলামেলা আলোচনায় ‘আরো খবর’-এর সম্পাদক রাজাময় মুখোপাধ্যায়-কে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের আগামী দিনের ভাবনার কথা তুলে ধরলেন তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষ।
হুগলি জেলা প্রাচীন শহর শ্রীরামপুর। জাতীয়তাবাদী ভাবধারার ভোটারদের আধিক্য প্রথম থেকেই এই শহরে। বাম আমলেও শ্রীরামপুরে সবুজের ঝড় বয়েছে বিভিন্ন সময়ে। এই কেন্দ্রে এবার প্রার্থী বদল করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। জোড়া ফুলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন তৃণমূলের নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের অন্যতম মুখ তন্ময় ঘোষ। জোরকদমে শুরু করেছেন নির্বাচনী প্রচার। কী ভাবছেন সাধারণ মানুষকে নিয়ে?
প্রশ্ন- আপনি প্রথমবার বিধানসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আপনার বিশ্বের ৫০টি দেশে কাজ করবার অভিজ্ঞতা রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা কথাতেই আপনি দলে এবং তারপরে স্বরোজগার যোজনায় সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছেন। এখন বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম লড়াইটা এখন প্রচারেও আপনাকে দারুণভাবে দেখছি। প্রচারে সাড়া পাচ্ছেন আপনি?
উত্তর- আমি শ্রীরামপুর বিধানসভার মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ। প্রথমদিন থেকেই তারা যেভাবে আমাকে আশীর্বাদ দিচ্ছেন এবং উচ্ছ্বাস দেখাচ্ছেন আর এই উচ্ছ্বাস আর আবেগের জন্য আমি আপ্লুত এবং কৃতজ্ঞ। সাড়া পাচ্ছি কারণ এখানে লড়াইটা হচ্ছে একদিকে বিজেপি বাংলা বিদ্বেষী, বাঙালি বিদ্বেষী বিজেপি আর তার উল্ট দিকে বাংলার মানুষ। আর সেই লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আমাদের সর্বময় নেত্রী ভারতের জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লড়াইটা সেখানেই। সেজন্যই ২০২৬ –এর নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে তারা আমাকে এখানে লড়ার জন্য শ্রীরামপুরে লড়ার জন্য পাঠিয়েছেন। সুতরাং বাকি জায়গাগুলোর মত আমিও একজন সৈনিক সেখানে লড়ছি। আমি চেষ্টা করছি ২৮১ টা বুথেই পায়ে হেঁটে পুরো বিধানসভাটাই বাড়ি-বাড়ি ঘোরা।
প্রশ্ন-তো আরেকটা বিরোধী প্রতিদ্বন্দ্বী যারা রয়েছে তাদের জন্য কি ভাবছেন?
উত্তর- এই শ্রীরামপুর বিধানসভায় তো বিরোধী হিসাবে কাউকে খুব দেখা যাচ্ছে না। আমরা চাই মাঠে- ময়দানে লড়াই হোক। রাজনৈতিক লড়াই হোক। সেই লড়াইয়ে বিরোধীরা নেই। তারা যদি নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে লড়ার চেষ্টা করে সেটা আলাদা। কিন্তু মানুষের লড়াইয়ে তারা নেই। মানুষের লড়াইয়ে ৯০ শতাংশ তৃণমূলের লোকজন আছে, আমি আছি। বাকি ১০ শতাংশ বিরোধীরা। এখন অঙ্কের হিসাবে ৯০ শতাংশই বড় হয়। কিন্তু সেটা যদি নির্বাচন কমিশন ৯০ আর ১০-এর হিসাব ঘুরিয়ে দেন সেটা তাদের ব্যাপার। কিন্তু গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিরোধীরা এখানে নেই। তৃণমূল কংগ্রেস ৫০ হাজারের কাছাকাছি মার্জিনে জিতবেই এই আসন থেকে।
প্রশ্ন- প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার দাঁড়িয়েছেন?
উত্তর- শুভঙ্কর বাবুকে শুভেচ্ছা। তিনি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি। কিন্তু তিনি শ্রীরামপুরে দাঁড়িয়ে শুধুমাত্র ৫-৬ হাজার ভোট যেটা বিজেপির বিরুদ্ধে যেত সেটা ভোটটা কেটে আখেরে বিজেপিরই হয়তো ৫-৬ হাজার ভোটে সুবিধা হবে। এর চেয়ে বেশি কিছু হওয়ার নয় ওখানে।
প্রশ্ন- প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ গেল। তাঁরা গণতান্ত্রিক অধিকার হারালেন। এটাকে কীভাবে দেখছেন?
উত্তর- এটা সংসদীয় গণতন্ত্রের লজ্জা। ভারতবর্ষের যে সংবিধান, ভারতবর্ষের যে সংসদীয় গণতন্ত্র, ভারতবর্ষের যে আইন সেইসমস্ত কিছুর উর্দ্ধে গিয়ে বিজেপি এভাবে একটা ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মতন সাংবিধানিক একটা সংস্থাকে নিজেদের হয়ে কাজে লাগিয়ে যেটা করছে। তাতে আসলে ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের যে গরিমা-মহিমা সেইটা ক্ষুণ্ণ করছে। তবে ভারতবর্ষ এবং বাংলার মানুষ বিশেষত বাংলার মানুষ, যে মাটি থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম ভীত বপন হয়েছিল, সেই মাটিকে তারা চিনতে ভুল করেছে। বাংলার মানুষ প্রথম ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিল এবং বিজেপিকেও রাজনৈতিকভাবে দেশ থেকে উৎখাত করার পদ্ধতি বাংলার মাটি থেকেই শুরু হবে। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যে আমার বিধানসভা থেকে ১৪ হাজার ৬০০ মানুষের নাম আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন ছিল এবং তার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সেগুলো সবই তৃণমূলের ভোটার। কিন্তু এই করেও জেতা যাবেনা। এটা ওনারা বুঝতে পারছেন না। মানুষ এই কয়েকদিনে যখন প্রচার করেছি প্রচুর মানুষের দেখা গিয়েছে নাম বাদ গিয়েছে। তাদের কারোর বয়স ৮০ বছর, আবার কারোর বয়স ৯০ বছর। অর্থাৎ তারা স্বাধীনতার পূর্বে ওই বাড়িতেই জন্মেছেন। আমি জিজ্ঞাসা করেছি ‘আপনি আগে কোথায় ছিলেন?’ বলেছেন আমি এই বাড়িতেই জন্মেছি। তাদেরকে আজকে প্রমাণ দিতে হবে যে তারা শ্রীরামপুরের বাসিন্দা এটা লজ্জাজনক। এর প্রতিবাদ তারা দেখাবেন ২৯ তারিখ ইভিএমএ-এ ছাপ দিয়ে এবং সেটা তারা সবাই বুঝেছেন তাদের জন্য লড়ছেন একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সুতরাং তৃণমূল কংগ্রেস যে লড়ছে সেটা প্রমাণিত। আমরা যে লড়ছি সেটা প্রমাণিত। একজন মানুষ আমার বিধানসভায় আত্মহত্যা করেছেন এই এসআইআর-এ নাম বাদ যাওয়ার জন্য। বিজেপি নেতারা তো যাননি, অন্যদলের নেতারা যাননি। আমি তো গেছিলাম।
প্রশ্ন- মুখপত্র হিসাবে আপনি যতটা ঝাঁজালো বক্তব্য রাখেন প্রার্থী হিসাবে কিন্তু দেখেছি না?
উত্তর- না, দুটো আলাদা বিষয়। একটা হচ্ছে রাজনৈতিক ভাবে ন্যারেটিভ ভাবে সেট করা। সেটার জন্য প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ঝাঁঝালো মন্তব্য রাখতে হয়। মানুষের দুয়ারে যাচ্ছি। তাঁরা তো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নন। তাঁরা হচ্ছেন দেবতা। তাঁদের কাছে মাথা নোয়ানোটাই আমাদের নেত্রী শিখিয়েছেন।
প্রশ্ন- সে যে দলেরই সমর্থক হোক, তাইতো!
উত্তর- আমি নমিনেশন ফাইল করতে যাওয়ার দিন বিজেপি নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে যাওয়ার ছবি লাইভে আছে। আমি ওখানে যারা দাঁড়িয়েছিলেন সবাইকে হাতজোড় করে নমস্কার করতে করতে করতে গিয়েছি।
প্রশ্ন- আপনি বিধায়ক হলে বিজেপিরও বিধায়ক, সিপিআইএম-এর বিধায়ক এবং কংগ্রেসের বিধায়ক তাই তো?
উত্তর- একদমই তাই।
প্রশ্ন- আচ্ছা, বিজেপি বলছে এবার বাংলা দখল করে নেবে। কীভাবে দেখছেন বিষয়টা?
উত্তর- যারা বাংলার মাটি চেনে না, বাংলার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঁচ দশকের ইতিহাস জানে না। তারা কীভাবে বাংলা দখল করবে। আগে বাংলার মানুষ চিনুক, বাংলার সংস্কৃতি বুঝুক,তারপর বাংলা নিয়ে ভাববে।
প্রশ্ন- শ্রীরামপুরের মানুষের উদ্দেশ্যে আপনি কী বলবেন?
উত্তর- আমি পেশাগত ভাবে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করেছি। ৪৫ টার বেশি দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। সেই ইন্ডাস্ট্রিয়াল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এখানে একটা শিল্পাঞ্চল আছে ওই রিষড়া আর শ্রীরামপুর মিলিয়ে। ওই শিল্পাঞ্চলের জন্য নতুন নীতি প্রয়োগ করে আমি বিধানসভায় পেশ করব। আমি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ করব। দরকার পড়লে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আমাদের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাধ্যমে বা আমাদের স্থানীয় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাধ্যমে ওখানে পাঠাব। যার ফলে একটা নীতি প্রণয়ন করে আগামীদিনে রিষড়া শিল্পাঞ্চলকে আরও প্রসার ঘটনো আমার প্রথম লক্ষ্য। দ্বিতীয়, শ্রীরামপুর একটা ঐতিহাসিক শহর, গঙ্গার তীরবর্তী একটা সুন্দর জায়গা, সেটাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসাব গড়ে তুলব। যাতে সারা ভারতবর্ষের মানুষ বাংলায় এলে বলবে শ্রীরামপুর দেখতে যাচ্ছি।
বিধানসভা ফলাফল ২০২১
সুদীপ্ত রায় তৃণমূল – ৯৩,০২১
কবীর শংকর বোস বিজেপি
৬৯,৫৮৮
জয়ের ব্যবধান ২৩ হাজার ৪৩৩