চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বাংলার মাটি শাক্তক্ষেত্র বা কালীক্ষেত্র বলে পরিচিত হলেও শৈবক্ষেত্র হিসাবেও পিছিয়ে নেই বাংলা। রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বহু জাগ্রত শৈবক্ষেত্র। যেমন, কলকাতার খুব কাছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের বাখরাহাটে রয়েছে বাবার থান বড় কাছারি থান। কলকাতা থেকে সড়ক পথে দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। এক সময় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের বাখরাহাটের ঝিকুবেড়িয়া গ্রাম গোবিন্দপুর-সুতানুটির জমিদার সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের তালুকের অন্তর্গত ছিল। কোনো মন্দির ছিল না, ছিল মাটির ঢিপি। তার ওপর ছিল এক অশ্বত্থ গাছ। বিশ্বাস করা হয়, এ হল এক কল্পতরু গাছ যা সত্যি মনে চাওয়া হয় তাই মেলে। ইচ্ছেপূরণ হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন এই স্থানটি হল ভূতের কাছারি। কেউ কেউ বলেন এখানে আগে এক শ্মশান ছিল। এর পাশে ছিল পঞ্চবটী। সেখানে বাস করতেন এক সুপুরুষ বাকসিদ্ধ সাধু। তিনি ছিলেন এলাকার প্রাণপুরুষ ও রক্ষাকর্তা। প্রচলিত কাহিনি হল, ১৭৪০ সালে নবাব আলিবর্দী খানের শাসনকালে বাংলায় বর্গীর আক্রমণ ঘটে। অত্যাচার আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় বাসিন্দারা শ্মশানে ঠাঁই নেন। সাধুবাবার উপদেশে তাঁরা উপকৃত হন (Baro Kachari)।
আরও পড়ুন: Dead Economy: মার্কিন প্রেসিডেন্টের সুরে সুর মেলালেন রাহুল গান্ধী, তোপ দাগলেন নরেন্দ্র মোদিকে
এই প্রাচীন শৈবক্ষেত্র সম্পর্কে বলা হয়, এক চৈত্রর দুপুরে নীল পুজো উপলক্ষে ঢল নামে সাধুর কাছে। পঞ্চবটীর তলায় বসে কথা বলার সময় আচমকা তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গ্রামবাসীরা মিলিত ভাবে সাধুকে সমাধিস্থ করা হয়। কিছুদিন পর সেই সমাধিস্থলে অশ্বত্থ গাছ জন্মায়। গ্রামবাসীরা স্বপ্নে দেখেন এই কল্পতরু অশ্বত্থ গাছই সাধুবাবার প্রতিমূর্তি স্বরূপ। গ্রামবাসীদের স্বপ্নে দেখা দিয়ে সাধু বলেন, ‘আমি শিবশম্ভু স্বয়ং ভূতনাথ। আমি নন্দী, ভৃঙ্গি, ভূত-প্রেত, দত্যি-দানব, ভৈরব-কিন্নর ও দেবগণকে নিয়ে প্রতি রাতে কাছারি বসাই। তোরা একমনে ডাকলে আমি স্বপ্নে দেখা দেব। ভয় নেই। আমার কাছে সুবিচার পাবি।’ জনসাধারণ তাদের মনস্কামনা গাছের কাছে জানালে তা অদ্ভুত ভাবে পূরণ হয়। ধীরে ধীরে স্থান মাহাত্ম্যর কথা ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। পূজাস্থলে শিবলিঙ্গ বসানো হয়। আটাত্তরের বন্যায় পুরনো অশ্বত্থ গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়। নতুন করে অশ্বত্থ গাছ বসানো হয়। গোলাকার বেদীতে শিবলিঙ্গর প্রতিষ্ঠা করা হয়। আজও প্রতিদিন বিশেষ করে শনি ও মঙ্গলবার ধূমধাম সহকারে পুজো হয়। নিজের মনস্কামনা ছোট্ট কাগজে দরখাস্তর আকারে লিখে গাছের গায়ে বেঁধে দেওয়া হয়। মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। সামান্য ফুলবেলপাতাতেই তুষ্ট বাবা বড় কাছারি (Baro Kachari)।
Bangla Jago fb page: https://www.facebook.com/share/1HiWhGmAnH/
হাইলাইট- এক সময় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের বাখরাহাটের ঝিকুবেড়িয়া গ্রাম গোবিন্দপুর-সুতানুটির জমিদার সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের তালুকের অন্তর্গত ছিল। কোনো মন্দির ছিল না, ছিল মাটির ঢিপি। তার ওপর ছিল এক অশ্বত্থ গাছ। বিশ্বাস করা হয়, এ হল এক কল্পতরু গাছ যা সত্যি মনে চাওয়া হয় তাই মেলে। ইচ্ছেপূরণ হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন এই স্থানটি হল ভূতের কাছারি। কেউ কেউ বলেন এখানে আগে এক শ্মশান ছিল। এর পাশে ছিল পঞ্চবটী। সেখানে বাস করতেন এক সুপুরুষ বাকসিদ্ধ সাধু। তিনি ছিলেন এলাকার প্রাণপুরুষ ও রক্ষাকর্তা (Baro Kachari)।