চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক কড়া সংস্কারের পথে হাঁটছে বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকার। বেআইনি নির্মাণ রুখতে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর, এবার তিলোত্তমার ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে বেআইনি পার্কিংয়ের ওপর কড়া নজরদারির নির্দেশ দিলেন রাজ্যের নতুন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। কলকাতা পুরসভা (KMC) অনুমোদিত জোনের বাইরে কোনও পার্কিং বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
ভুয়ো স্লিপ ও রাজস্ব চুরির পর্দাফাঁস
রবিবার এই বিষয়ে কড়া মনোভাব প্রকাশ করে অগ্নিমিত্রা পল বলেন, “কলকাতা শহরের বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে ভুয়ো পার্কিং স্লিপ দিয়ে সাধারণ মানুষের থেকে বেআইনিভাবে টাকা তোলা হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা সরকারের রাজস্ব দফতরে জমা পড়ে না, বরং কিছু অসাধু চক্রের পকেটে যায়। এবার থেকে কোনো রাস্তায় কাগজের স্লিপ দিয়ে এভাবে টাকা তোলা সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে।” অনুমোদন ছাড়া টাকার বিনিময়ে গাড়ি পার্ক করালে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
২৭টি ট্রাফিক গার্ডে বিশেষ মেগা অভিযান
মন্ত্রীর নির্দেশের পরই নড়েচড়ে বসেছে কলকাতা পুলিশ। শহরের মোট ২৭টি ট্রাফিক গার্ড এলাকায় বেআইনি পার্কিং রুখতে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। রাস্তা সরু করে যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং করার সংস্কৃতি বন্ধ করতে ওয়ান-লাইন পার্কিং ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন রাস্তায় কতটা জায়গায় গাড়ি রাখা যাবে, তা স্পষ্ট করে ডিসপ্লে বোর্ডে লিখে টাঙাতে হবে।
পার্কিং কর্মীদের জন্য নতুন গাইডলাইন
পার্কিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে আরও বেশ কিছু নিয়মের কড়াকড়ি করছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। এবার থেকে পার্কিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের নির্দিষ্ট সরকারি পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে ডিসপ্লে বোর্ডে পার্কিং ফি বা টাকার অঙ্ক স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ বাড়তি টাকা দেওয়ার জালিয়াতি থেকে বাঁচতে পারেন।
কলকাতার রাস্তাঘাটকে যানজটমুক্ত করতে এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে নতুন সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন শহরের সিংহভাগ গাড়ি চালক ও নিত্যযাত্রীরা।