চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন-শেষ মুহূর্তে বড় কোনও পরিবর্তন না হলে ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেবে না ইরান। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে চলা আসন্ন বিশ্বকাপে একটি দল কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে কোন দেশকে নেওয়া হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য তালিকায় উঠে আসছে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইতালির নাম।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কোনও দল সরে দাঁড়ালে সেই মহাদেশ থেকেই বিকল্প দল বেছে নেওয়া হয়। তবে এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সে বিষয়ে ফিফার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে।
ফিফার নিয়ম বলছে, যে দেশ প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে সেই দলের গ্রুপের রানার-আপ অথবা সংশ্লিষ্ট মহাদেশ থেকে বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ের দলকে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এই নিয়ম অনুযায়ী এশিয়ার মধ্যে বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়া দলগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির র্যাঙ্কিং সবচেয়ে ভাল। ফলে তাদের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে সরাসরি সুযোগ পেতে পারে ইরাকও। চলতি মাসেই আন্তর্মহাদেশীয় প্লে-অফে ইরাকের মুখোমুখি হওয়ার কথা বলিভিয়া বা সুরিনামের। যদি ফিফা ইরাককে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার অনুমতি দেয়, তাহলে তাদের প্লে-অফ ম্যাচ বাতিল হয়ে যেতে পারে। সেই ক্ষেত্রে প্লে-অফে খেলতে হতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে।
আরেকটি সম্ভাবনাও রয়েছে। যদি ইরাক প্লে-অফ জিতে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে ফেলে, তাহলে এশিয়ায় বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া দলগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ের কারণে আমিরশাহিকেই ইরানের বদলি হিসেবে নেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাদের আলাদা করে আর কোনও প্লে-অফ খেলতে হবে না।
তবে ফিফা চাইলে অন্য পথও নিতে পারে। এশিয়ার বাইরে থেকেও আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে কোনও দেশকে সুযোগ দেওয়া সম্ভব। সেই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ইতালি। যদিও নিয়ম অনুযায়ী তাদের প্লে-অফ খেলতে হওয়ার কথা, কিন্তু সরাসরি সুযোগ পেলে প্লে-অফের কাঠামো নতুন করে সাজাতে হবে।
এই কারণেই অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এত জটিল ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে হয়তো হাঁটবে না ফিফা। বরং এশিয়া থেকেই ইরানের পরিবর্তে নতুন দল নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।