চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: লখনউ সুপার জায়েন্টসের বিরুদ্ধেও ব্যাট হাতে নিজের পরিচিত ছন্দে ছিলেন বিরাট কোহলি। লক্ষ্য ছিল খুব বেশি কঠিন নয়, তবু প্রতিটি বলেই তিনি যেন নিজের দাপট দেখাচ্ছিলেন। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকা কোহলি দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন দৃঢ়ভাবে।
মাত্র চৌত্রিশ বলেই তিনি করে ফেলেছিলেন ঊনপঞ্চাশ রান। তাঁর ইনিংসে ছিল ছয়টি চার এবং একটি ছক্কা। মনে হচ্ছিল, আর মাত্র এক ধাপ দূরে তাঁর ৬৬তম আইপিএল অর্ধশতক। কিন্তু ক্রিকেট দেবতা যেন অন্য কিছু লিখে রেখেছিলেন।
৪৯ রানে ব্যাট করার সময় আভেশ খানের বল আকাশে তুলে মারতে গিয়ে লং অন অঞ্চলে নিকোলাস পুরানের হাতে ধরা পড়েন কোহলি। মুহূর্তেই থেমে যায় গ্যালারির উচ্ছ্বাস। হতাশায় নেমে আসে নীরবতা। মাঠে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী অনুষ্কা শর্মা, যিনি মুহূর্তটি দেখে স্পষ্টভাবেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে লখনউ সুপার জায়ান্টস কখনওই নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায়নি। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা গুটিয়ে যায় একশ ছেচল্লিশ রানে, যা ছিল তাদের চলতি মরশুমের সবচেয়ে কম স্কোর। দলের হয়ে মিচেল মার্শ এবং আয়ুষ বাদোনি কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও বাকিরা ব্যর্থ হন।
বেঙ্গালুরুর বোলিংয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেন রসিক সালাম দার, যিনি চার উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। পাশাপাশি ভুবনেশ্বর কুমার তিনটি এবং ক্রুনাল পান্ডিয়া দু’টি উইকেট শিকার করেন। একটি উইকেট পান জশ হ্যাজেলউড।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে কোহলির সেই আগ্রাসী শুরুই লক্ষ্য তাড়া করার ভিত গড়ে দেয়। পরে অধিনায়ক রাজত পাটিদার এবং জিতেশ শর্মার দ্রুত রান দলকে জয়ের পথে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত মাত্র পনেরো দশমিক এক ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য অতিক্রম করে দলটি। লখনউয়ের হয়ে প্রিন্স যাদব দু’টি উইকেট নিলেও তা যথেষ্ট হয়নি ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে।
সব মিলিয়ে এটি ছিল একপেশে ম্যাচ, যেখানে একদিকে ছিল দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শন, অন্যদিকে কোহলির ঝলমলে শুরু আর শেষ মুহূর্তের আক্ষেপ। গ্যালারি থেকে শুরু করে দর্শক— সবাই যেন একই আবেগে আটকে ছিলেন, এক রানের ব্যবধানের সেই নির্মম গল্পে।