চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ভারতীয় ক্রিকেটে গৌতম গম্ভীরের আগমন শুধু কোচ পরিবর্তনের ঘটনা ছিল না, ছিল একটি নতুন ভাবনার শুরু। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনও ক্রিকেটার দলের চেয়ে বড় হতে পারে না। তাঁর লক্ষ্য ছিল এমন একটি দল গড়া, যেখানে সবার ভূমিকা সমান গুরুত্বপূর্ণ হবে এবং ব্যক্তির চেয়ে গুরুত্ব পাবে দল।
এই দর্শন নিয়ে এগোতে গিয়ে গম্ভীরকে একাধিক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। রোহিত শর্মা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবং বিরাট কোহলির মতো বড় নামকে ঘিরে নানা আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কিন্তু গম্ভীর বারবার বুঝিয়ে দিয়েছেন, ভারতীয় ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে দলগত সংস্কৃতিই সবচেয়ে জরুরি।
ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাস অবশ্য অন্য কথা বলে। কপিল দেব থেকে সচিন তেন্ডুলকর, মহেন্দ্র সিং ধোনি থেকে বিরাট কোহলি— প্রত্যেকেই এমন জনপ্রিয়তা পেয়েছেন, যা অনেক সময় দলের জনপ্রিয়তাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। সমর্থকদের বড় অংশ বরাবরই কোনও একজন তারকা ক্রিকেটারকে ঘিরে আবেগ তৈরি করেছেন।
এমন সময়ে ভারতীয় ক্রিকেটে আবির্ভাব হয়েছে বৈভব সূর্যবংশীর। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তিনি এমন সব ইনিংস খেলেছেন, যা তাঁকে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে নতুন প্রিয় মুখ করে তুলেছে। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে এলিমিনেটরে ২৯ বলে ৯৭ রান এবং গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ৯৬ রান করে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।
তাঁর ব্যাটিং দেখে অনেকেই ভবিষ্যতের ভারতীয় তারকা হিসাবে দেখতে শুরু করেছেন বৈভবকে। সচিন তেন্ডুলকর পর্যন্ত তাঁর ব্যাটিং নিয়ে প্রশংসা করেছেন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভবিষ্যতের আইপিএল নিলামে বৈভবের দাম ৩০ কোটির গণ্ডিও পেরিয়ে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন গৌতম গম্ভীর এবং প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর। একদিকে বৈভবের অসাধারণ প্রতিভা, অন্যদিকে তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিপুল উন্মাদনা। দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা চাইছেন দ্রুত তাঁকে ভারতীয় দলে দেখতে। কিন্তু সেটাই আবার গম্ভীরের দীর্ঘদিনের দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ বৈভবকে দ্রুত জাতীয় দলে তুলে আনা মানে তাঁকে ঘিরে আরও বড় তারকা সংস্কৃতির জন্ম দেওয়া। অথচ গম্ভীর চাইছেন এমন একটি দল, যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে প্রক্রিয়া মেনে, জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নয়।
তাই বৈভব সূর্যবংশীর উত্থান শুধু একটি তরুণ ক্রিকেটারের সাফল্যের গল্প নয়। এটি ভারতীয় ক্রিকেটে দু’টি ভিন্ন ভাবনার সংঘর্ষও বটে। একদিকে গম্ভীরের দলকেন্দ্রিক দর্শন, অন্যদিকে বৈভবকে ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন তারকা উন্মাদনা। আগামী দিনে এই দুইয়ের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য তৈরি হয়, সেটাই এখন ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।