চিত্রঃ সংগৃহীত
AK Bangla 24×7 Digital: ব্যাট হাতে আগ্রাসী ক্রিকেটের জন্য ইতিমধ্যেই পরিচিত বৈভব সূর্যবংশী। কিন্তু বল হাতেও যে এই ১৫ বছরের বিস্ময় প্রতিভা এতটা কার্যকর হতে পারেন, তা হয়তো ভাবেননি কেউ। দলীপ ট্রফিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র তিন ওভার বল করে দু’টি উইকেট তুলে নিয়ে চমকে দিলেন বিহারের এই তরুণ ক্রিকেটার। এমনকী পূর্বাঞ্চলের অধিনায়ক ঈশান কিষানও সম্ভবত এমন ফল আশা করেননি। দলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চলের সহ-অধিনায়ক বৈভব। প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে অবশ্য তেমন কিছু করতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে প্রতিপক্ষের উইকেট দ্রুত পড়ছিল না। সেই সময় ২৮তম ওভারে বৈভবের হাতে বল তুলে দেন ঈশান। আর বল হাতে নিয়েই নিজের জাত চেনান তরুণ ক্রিকেটার।
মাত্র দু’টি বলের মধ্যেই পর পর দুই উইকেট তুলে নেন বৈভব। প্রথমে কিশান লিংডোকে ফেরানোর পর তাঁর শিকার হন ইমলিওয়াতি লেমতুর। শেষ পর্যন্ত তিন ওভার বল করে মাত্র ১১ রান দিয়ে দু’টি উইকেট নেন তিনি। বোলিং করার সুযোগ পাওয়ার প্রসঙ্গে বৈভব জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষের উইকেট পড়ছিল না বলেই তাঁকে দু’-তিন ওভার বল করতে বলা হয়। ঈশান কিষান হয়তো কিছুটা ঝুঁকি নিয়েই তাঁর হাতে বল তুলে দিয়েছিলেন। তবে অধিনায়ক জানতেন না যে বৈভব নিজেকে শুধু ব্যাটার হিসেবে দেখেন না, উইকেটশিকারী হিসেবেও বল করতে পছন্দ করেন।
বৈভবের কথায়, ব্যাটারদের যেমন বোলিং করতে ভালো লাগে, তেমনই বোলারদের ব্যাট করতে ভালো লাগে। তাঁর কাছে ক্রিকেটের মূল আনন্দই হল খেলাটাকে উপভোগ করা। সেই মানসিকতা নিয়েই বল হাতে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।
তিন ওভারের ছোট স্পেল নিয়েও বৈভবের পরিকল্পনা ছিল বেশ পরিষ্কার। তাঁর কথায়, পাঁচটি উইকেট পেলেও হয়তো তাঁকে তিন ওভারের বেশি বল করতে দেওয়া হবে না। তাই প্রতিটি বল নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার চেষ্টা করেছেন এবং দ্রুত নিজের স্পেল শেষ করতে চেয়েছেন। প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে রান না পাওয়ার হতাশাও কিছুটা মুছে দিয়েছে এই বোলিং। বৈভব জানিয়েছেন, আগের ম্যাচে ব্যাট হাতে তেমন কিছু করতে পারেননি। তাই বল হাতে দলকে সাহায্য করতে পেরে তাঁর ভালো লেগেছে। বিশেষ করে একজন ব্যাটার যখন উইকেট পান, সেই আনন্দটা তাঁর কাছে আলাদা।