ad
ad

Breaking News

FIFA World Cup 2026

বাস্তিল দিবসেই চুরমার ফরাসি বিপ্লব! এমবাপেকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্প্যানিশ আর্মাডা!

এমবাপে-দেম্বেলেকে বোতলবন্দি করল রক্ষণ! ফরাসিদের অহংকার গুঁড়িয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন!

Spain Knocks Out Mbappe's France to Reach Final

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: দিনটি ছিল ১৪ জুলাই, ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ‘বাস্তিল দিবস’। ১৭৮৯ সালের এই দিনেই বিপ্লবীদের দাপটে ভেঙে পড়েছিল কুখ্যাত বাস্তিল দুর্গ, সূচনা হয়েছিল ফরাসি বিপ্লবের। কিলিয়ান এমবাপেরা হয়তো ভেবেছিলেন এই বিশেষ দিনে মাঠের বুকেও ফুটবল বিপ্লব ঘটিয়ে আরও একবার বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখবেন। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে ফরাসি বিপ্লবকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিল স্প্যানিশ আর্মাডা। লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমোদের তরুণ তুর্কিদের দাপটে ফ্রান্সকে বিদায় নিতে হল সেমিফাইনাল থেকেই। টানা তৃতীয়বার ফ্রান্সকে নকআউটে হারিয়ে ফাইনালে টিকিট কেটে নিল স্পেন। অন্যতম ফেভারিট হয়েও বিশ্বকাপ ছোঁয়া হল না ফরাসিদের।

ম্যাচের আগেই হুঙ্কার দিয়েছিলেন তরুণ স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামাল। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, শেষ দুটি টুর্নামেন্টেও ফরাসিদের ট্রফি স্বপ্ন ভাঙার নায়ক ছিলেন তাঁরাই। মাঠের লড়াই প্রমাণ করল, ইয়ামালের সেই হুঙ্কার মোটেও ফাঁকা আওয়াজ ছিল না। ম্যাচের শুরু থেকেই এমবাপে-দেম্বেলে-ওলিসে ত্রিমূর্তিকে পুরোপুরি বোতলবন্দি করে রাখে স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণভাগ।

প্রথমার্ধেই জোড়া ধাক্কা ফ্রান্স শিবিরে

দানি ওলমো এবং রড্রিদের দ্রুত গতির ছোট পাস আর আগ্রাসী ফুটবলের সামনে খেই হারিয়ে ফেলে ফ্রান্স। ম্যাচের ২০ মিনিটের মাথায় বক্সে ইয়ামালকে ফাউল করে বসেন ফরাসি ডিফেন্ডার দিগনে। পেনাল্টি থেকে গোল করতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি ওয়ারজাবাল (Oyarzabal)। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরেই ফ্রান্সের বিপদ আরও বাড়ে, যখন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন দলের প্রধান রক্ষণভাগের স্তম্ভ সালিবা।

দ্বিতীয়ার্ধে পোরোর ম্যাজিক, ছন্নছাড়া এমবাপেরা

খেলোয়াড়দের চোট আর স্পেনের লাগাতার আক্রমণের সামনে প্রথমার্ধেই ছিটকে গিয়েছিল ফ্রান্স। বিরতির পর কোচ দিদিয়ের দেশঁ স্ট্র্যাটেজি বদলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি। ৫৮ মিনিটে পেদ্রো পোরোর এক দুর্দান্ত গোল ফ্রান্সকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয় ২-০ ব্যবধানে। যে ফ্রান্স গোটা টুর্নামেন্টে একবারও পিছিয়ে পড়েনি, তারা পরপর দুই গোল হজম করে একেবারে ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে। ওলিস-বারকোলারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করলেও স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমোনের প্রাচীর ভাঙা সম্ভব হয়নি। বেশ কয়েকবার গোললাইন থেকে বেরিয়ে এসে নিশ্চিত গোল বাঁচান সিমোন।

লুইস দে লা ফুয়েন্তের প্রশিক্ষণে এই স্পেন দল পুরো টুর্নামেন্টে প্রতি ম্যাচে নিজেদের উন্নত করেছে। ২০১০ সালে প্রথমবার ফাইনালে উঠেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর আরও একবার সোনালী ট্রফি ছোঁয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে তারা। ফুটবল বিশ্ব এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, ২০১০ সালের সেই দক্ষিণ আফ্রিকার রূপকথা কি ২০২৬-এ আবার ফিরে আসবে?