চিত্রঃ নিজস্ব গ্রাফিক্স
Bangla Jago Desk: চলতি বছরে মহিলাদের একদিনের বিশ্বকাপ জয় করেছে টিম ইন্ডিয়ার মহিলা ব্রিগেড। উইমেন ব্লুজদের বাহিনীর অন্যতম সদস্য ছিলেন রেনুকা সিং ঠাকুর। বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে এবার দলের অন্যদের মতো নিজের ঘরে ফিরেছেন হিমাচল প্রদেশের এই ক্রিকেটার। রবিবার রেণুকা তাঁর নিজের গ্রাম শিমলা জেলার রোহরুর পারসায় পৌঁছনো মাত্রই তাঁকে নিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন গ্রামবাসীরা। এমনকি রেণুকাকে বীরের মতো সংবর্ধনাও জানান তাঁরা। গ্রামবাসীদের তাঁকে নিয়ে এত উল্লাস দেখে অভিভূত স্বয়ং রেণুকাও।
এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রেণুকার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন গ্রামের সকলে। অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই সকলের সামনে রেণুকা কিভাবে হিমাচলের এই পাহাড়ি রাজ্য থেকে উঠে এসে আজকে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ জয় করেছেন তা তুলে ধরা হয় একটি তথ্যচিত্রের মাধ্যমে। তাঁকে নিয়ে এইরকম তথ্যচিত্র তৈরি হয়েছে দেখেও আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন সদ্য বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যটি।
এরপর এমন অনুষ্ঠানে আসতে পেরে তিনি যে যথেষ্ট অভিভূত সে কথাও ব্যক্ত করেন রেণুকা। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এই গ্রাম থেকেই আমার উত্থান হয়েছে। এবার জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ জয় করতে পেরেছি। এবং গ্রামবাসীরা আমাকে যেভাবে সংবর্ধনা দিয়েছেন, তা আমাকে এক কথায় অভিভূত করেছে। এমনকি আমাকে নিয়ে তৈরি তথ্যচিত্রও এক কথায় অসাধারণ।’
উল্লেখ্য, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের জার্সিতে বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রণাম জানাতে হাটেমন্দিরেও যান। সেখানে গিয়ে রেণুকা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থণাও করেন। এরপর তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এমন সাফল্যের জন্য অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি। এবার তাঁর ফল পেলাম। এমন সাফল্যের পিছনে আমার মা এবং ভূপিন্দার কাকার অবদান সবচেয়ে বেশি। যাঁরা সবসময় এই কঠিন সময়ে আমার পাশে থেকেছেন এবং আমাকে প্রতিনিয়ত উৎসাহ দিয়েছেন।’
প্রসঙ্গত, ভারতীয় ক্রিকেটে আজকের রেণুকা হয়ে ওঠা সহজে হয়ে ওঠেনি। মাত্র তিন বছর বয়সে রেণুকা তাঁর বাবাকে হারিয়েছিল। তখন থেকেই রেণুকার মা তাঁর ছেলে এবং রেণুকাকে নিয়ে কঠোর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দিন কাটিয়েছেন। প্রতিটা সময় তখন যেন লড়াই, লড়াই আর লড়াই। এবং রেণুকার বাবা প্রয়াত কেহর সিং ঠাকুর চাইতেন যেন রেণুকা ও তাঁর দাদা খেলাধুলো করে বড় হতে পারেন। স্বামীর সেই স্বপ্নই এবার পূরণ করলেন রেণুকার মা। রেণুকা বাবার সেই স্মৃতি রেণুকা এখন বহন করে চলেছেন হাতের ট্যাটুর মাধ্যমে।