চিত্র : নিজস্ব
Bangla Jago Desk: সুদীপ্ত ভট্টাচার্যঃ হুগলি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা বৈঁচিগ্রাম। গ্রাম্য এই এলাকা থেকেই বড় ফুটবলার স্বপ্ন নিয়ে মাঠ কাঁপাচ্ছে এক কিশোর। নাম শিশির সরকার। ইতিমধ্যে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন আয়োজিত অনুর্ধ্ব-১৫ ফুটবল লিগে লাল-হলুদ জার্সি গায়ে মোট ২৩টি গোল করে ফেলেছে হুগলির অখ্যাত গ্রামের এই কিশোর। শুক্রবারও শিশির দলের হয়ে ৪টি গোল করে। শিশির যেন এখন লাল-হলুদের প্রজ্জ্বলিত মশাল।
প্রতি ম্যাচেই বল পেলেই ঝলসে উঠছে শিশির। ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ থাকলেই স্কোরশিটে জ্বলজ্বল করছে শিশিরের নাম। বর্তমান শিশির যেন মনে করিয়ে দিচ্ছেন অতীতের প্রাক্তন আর এক শিশিরকে।
শুক্রবার ম্যাচ শেষে যখন শিশিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, বৈঁচিগ্রামের এই কিশোর ফুটবলাটির গলায় যেন ঝড়ে পড়ল আত্মবিশ্বাসের সুর। শিশির বলে, ‘আপনারা আমাকে আশীর্বাদ করুন। আমি যেন আরও ভাল খেলতে পারি। আমি দেশের হয়ে খেলতে চাই। দেশকে ট্রফি এনে দিতে চাই। তবেই আমার স্বপ্ন ও পরিশ্রম দুটোই সফল হবে।’
একের পর এক ম্যাচে গোল, সংবাদপত্রে তাঁর প্রশংসার বন্যার বহর দেখেও নির্বিকার এই অমলিনভাবে বলে, ‘দাদা আমাকে নিয়ে লিখছেন, কিন্তু একটি বার আমার বৈঁচি ফুটবল অ্যাকাডেমি আর অমিতাভ স্যারের কথা লিখবেন। তারা না থাকলে আজকের এই শিশিরের ফুটবল খেলাই হয়ে উঠত না।’
সত্যিই শিশির অকৃতজ্ঞ নয়, শিশিরের এই কৃতজ্ঞতার কথা শুনে সকলেই অবাক হবেন। কিন্তু এটাই শেখা উচিত প্রতিটি মানুষের।
বৈঁচিগ্রামের ক্লাস নবম শ্রেণির এই ছাত্রের বাবা পেশায় কৃষিজীবী। বাড়িতে মা ও এক বোন বর্তমান। সংসারে অভাব নিত্য সঙ্গী। তবুও ফুটবল ছাড়া আর অন্য কোনও কিছুই ভাবে না শিশির। তাঁর ধ্যান-জ্ঞান সবই ফুটবল আর ফুটবল।
এই মুহূর্তে শিশিরদের কোচের দায়িত্ব পালন করছেন প্রাক্তন ফুটবলার ফাল্গুনি দত্ত। প্রিয় ছাত্রের প্রসঙ্গ উঠতেই ময়দানের একদা প্রাক্তনী বেশ আত্মবিশ্বাসী। ফাল্গুনি বলেন, ‘যত দিন যাচ্ছে, শিশির যেন আমাদের সবাইকে মুগ্ধ করে দিচ্ছে। আমার বলতে কোনও দ্বিধা নেই, শিশির যদি নিজেকে ধরে রাখতে পারে, তাহলে আগামী দিনে আমরা একজন দারুণ ফুটবলার পেতে চলেছি।’
একটা সময় মহঃস্বল থেকেই কাকভোরের ট্রেনে করে ময়দানে আসতেন ফুটবলাররা। কে ছিলেন না সেই তালিকায়। হুগলি, অবিভক্ত ২৪ পরগণা, হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে ফুটবলের মরসুম শুরু হলেই কিটস ব্যাগ নিয়ে ময়দানমুখী হতেন ফুটবলাররা। পরবর্তীকালে তাঁদের মধ্যে দেশের জার্সি গায়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। শিশির কি পারবেন তাঁদের যোগ্য উত্তরসূরী হতে? অবশ্য তা সময় বলবে। তবে বৈঁচিগ্রামের আপামর ফুটবলপ্রেমী মানুষের আশা, শিশির আগামী দিনে ভারতীয় ফুটবলের উদীয়মান সূর্য হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করুক। স্বপ্ন সফল হোক ওর।