চিত্রঃ নিজস্ব গ্রাফিক্স
Bangla Jago Desk: সুরাটের লালাভাই কন্ট্রাক্টর স্টেডিয়ামে রঞ্জি ট্রফিতে দ্বিতীয় দিনের শেষে রেল দলের রান ছিল ৫ উইকেটের বিনিময়ে ৯৭ রান। দ্বিতীয় দিনের অপরাজিত রেল দলের দুই ব্যাটার ভার্গব মেরাই (৩৭) ও উপেন্দ্র যাদব (২০) তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেন। এবং শুরু থেকেই আইসিইউতে থাকা রেল দলকে ক্রমশ টেনে তোলার চেষ্টা করতে থাকেন তাঁরা। সেই সময় বাংলার কোনও বোলারই যেন খাপ খুলতে পারছিলেন না তাঁদের সামনে।
ধীরে ধীরে হাফ সেঞ্চুরিও করে ফেলেন রেল দলের দুই ব্যাটার। বাংলার বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে বেসামাল রেল দল তখন যেন কিছুটা হলেও অক্সিজেন পেতে শুরু করেছে। তাদের হয়ে অনবদ্য ইনিংস উপহার দিলেন ভার্গব ও উপেন্দ্র। উপেন্দ্র ১৭৮ বলে ৭০ রানের ইনিংস উপহার দিয়ে মহম্মদ কাইফের বলে বোল্ড আউট হয়ে সাজঘরে ফিরলেন। এরপর ৯১ রানের ইনিংস খেললেন ভার্গব। তাঁর ইনিংস সাজানো ছিল ১৯৪ বল খেলে এই রান করেন তিনি। রাহুল প্রসাদের বলে শাকির গান্ধির হাতে ধরা পড়ে যান ভার্গব। মাত্র ৯ রানের জন্য শতরান পেলেন না তিনি।
ভার্গব ও উপেন্দ্র ফিরে যেতেই রেল দলের বাকি ব্যাটাররা এলেন আর গেলেন। ফলে যা হওয়ার তাই হল। ফলঅন বাঁচাতে রেল দলের দরকার ছিল ২৭৪ রান। কিন্তু একটা সময় যখন সবাই আশা করেছিলেন যে হয়ত ভার্গব আর উপেন্দ্রর ব্যাটিংয়েই হয়ত ফলঅন রক্ষা করতে পারবে রেল। না তা আর হল না। শেষ পর্যন্ত ফলঅন-ই করতে হল তাঁদের।
ফলঅন করতে নেমেও সেই চেনা ছন্দেই দেখা গেল রেল দলকে। প্রথম ইনিংসের মত দ্বিতীয় ইনিংসেও রান পেলেন না জুবের। বিবেক করলেন মাত্র ২৯ রান। দলের প্রথম দুই ব্যাটারের মত ব্যর্থতার তালিকায় নাম লেখালেন মহম্মদ সাইফ ও প্রথম সিং। একজন ৯ এবং অপরজন ৩ রানেই ফিরে গেলেন। চটজলদি ফিরলেন সূরযও।
ফলে রেল দলকে হাঁর বাঁচানোর লড়াই সেই বর্তাল ভার্গব ও উপেন্দ্রর ঘাড়েই। দুজনেই তৃতীয় দিনে অপরাজিত থাকলেন যথাক্রমে ২০ ও ১২ রানে। সোমবার দিনের শেষে রেল দলের সংগ্রহ ৫ উইকেটের বিনিময়ে ৯০ রান। তারা পিছিয়ে রয়েছে ১৬২ রানে।
বাংলার হয়ে প্রথম ইনিংসে চারটি উইকেট দখল করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে সোমবার কোনও উইকেট পেলেন না সূরয সিন্ধু। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলার হয়ে দুটি করে উইকেট দখল করেন শাহবাজ আহমেদ ও রাহুল প্রসাদ। একটি উইকেট নেন মহম্মদ কাইফ।
এখন দেখা যাক চতুর্থ দিনে বাংলার বোলাররা কত তাড়াতাড়ি ভার্গব ও উপেন্দ্রকে সাজঘরে ফিরিয়ে জয় তুলে নিতে পারে, নাকি আইসিইউতে থাকা রেল দলকে হারের হাত থেকে বাঁচাতে পারেন উপেন্দ্র ও ভার্গব জুটি তা সময়ই বলবে।