চিত্র : সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: জয় শুধু একটাই জয়ই যেন বদলে দিয়েছে ইস্টবেঙ্গলকে। মহমেডান ম্যাচে জয় পেয়েছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। তারপর অ্যাওয়ে ম্যাচে শনিবার পঞ্জাবেরও বিরুদ্ধে তাদের ঘরের মাঠে হারাল অস্কারের দল। খেলার ফল ৩-১। লাল হলুদের হয়ে গোল করলেন দিয়ামান্তাকস, নাওরেম মহেশ সিং ও ডিফেন্ডার লালচুংনুঙ্গা।
নিজেদের ঘরের মাঠে এই পঞ্জাবের বিরুদ্ধেই পিছিয়ে থেকে দূরন্ত জয় পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। শনিবার অবশ্য পিছিয়ে থেকে নয়, শুরু থেকেই এগিয়েছিল লেসলি ক্লডিয়াস সরণীর শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবটি। খোঁচা খাওয়া ইস্টবেঙ্গল সবসময়ই ভয়ঙ্কর। সুপার সিক্সে যাওয়া এখনও অনিশ্চিত। কিন্তু পয়েন্ট টেবিলের ওপরের দিকে ওঠাই মূল লক্ষ্য এখন ইস্টবেঙ্গলের স্পেনিশ কোচের। সেইমত তাঁর লক্ষ্য হাতে গোণা বাকি সবকটা ম্যাচ থেকেই ৩ পয়েন্ট অর্জন করা। সেই লক্ষ্যে মহমেডান ম্যাচের পর পঞ্জাব ম্যাচেও সফল হলেন অভিজ্ঞ কোচ অস্কার ব্রুজো।
চোট-আঘাতে জর্জরিত গোটা দল, তাতে কি হাতে যাঁরা আছেন তাঁদের নিয়েই পঞ্জাব বধের দল তৈরি করেছিলেন অস্কার। গোলে গিলকে রেখে আনোয়ার, হেক্টর, নুঙ্গা ও রাকিপকে নিয়ে সাজিয়েছিলেন রক্ষণভাগ। মাঝমাঠে ছিলেন সৌভিক, ক্রেসপো, বিষ্ণু ও মহেশ। দুই ফরোয়ার্ড হলেন দিয়ামান্তাকস ও মেসি বাউলি।
ম্যাচের ১৫ মিনিটে লাল-হলুদের হয়ে প্রথম গোল করলেন গ্রিক স্ট্রাইকার দিয়ামান্তকাস। দীর্ঘদিন বাদে আবার গোলের দেখা পেলেন তিনি। একক কৃতিত্বে পঞ্জাব রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে তাঁর দূরন্ত শট জড়িয়ে যায় জালে। এরপর প্রথমার্ধে আর কোনও পক্ষই কোনও গোল করতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মেসি বক্সের মধ্যে বিষ্ণুকে বল দিলে তা থেকে বিষ্ণুর শট পঞ্জাব রক্ষণে প্রতিহত হয়ে মহেশের কাছে এলে দূরন্ত শটে পঞ্জাবের জাল কাঁপিয়ে দেন অভিজ্ঞ মহেশ। দু গোলে পিছিয়ে পঞ্জাব দলটি তখন যেন বেশ কিছুটা হতবিম্ব হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে পঞ্জাব কোচ মাঠে নামান লুচা মাকেনকে। আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ে পঞ্চনদের দলটির।
কিন্তু আক্রমণের বিরুদ্ধে গিয়েই লাল-হলুদের তৃতীয় গোল। বক্সের মধ্যে জটলা থেকে নুঙ্গা গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে। তিন গোলে পিছিয়ে পড়তেই সম্বিত ফেরে পঞ্জাব দলটির। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।
পঞ্জাবের ক্রমাগত আক্রমণ সামাল দিতে অস্কার হেক্টর ও বিষ্ণুকে তুলে মাঠে নামান প্রভাত লাকড়া ও নিশু কুমারকে। নুঙ্গাকে জুড়ে দেন আনোয়ারের সঙ্গে। এরই মধ্যে প্রতি আক্রমণ থেকে পঞ্জাবের ভিদালের দর্শনীয় গোল। ম্যাচের বয়স তখন ৬২ মিনিট। ৭০ মিনিটে মেসির গোল বাতিল না হলে ইস্টবেঙ্গল ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নিতেই পারত। শেষ বেলায় দিয়ামান্তাকসকে তুলে ডেভিড ও ক্রেসপোর বদলে জিকসনকে নামান অস্কার। তবে ব্যবধান সেই একই থেকে যায়।
ম্যাচ জিতে পঞ্জাবের থেকে গোল পার্থক্যে ১০ নম্বরে উঠে এল ইস্টবেঙ্গল। ২১ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ২৪ পয়েন্ট। অপর দিকে পঞ্জাব নেমে গেল ১১ নম্বর স্থানে। সমসংখ্যাক ম্যাচে তাদেরও সংগ্রহ ২৪ পয়েন্ট।