চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: টি-২০ বিশ্বকাপে সুপার এইট থেকেই বিদায় – এই ফলের পরেই পাকিস্তান ক্রিকেটে শুরু হয়েছে তীব্র অস্থিরতা। অধিনায়ক সলমন আলি আঘার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, পাশাপাশি কোচ মাইক হেসনের কৌশল ও দল নির্বাচন নিয়েও সমালোচনা তুঙ্গে। সেই প্রভাব গিয়ে পড়েছে সরাসরি পাকিস্তান ক্রিকেটের অন্দরমহলে।
পাক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বকাপ শেষ হতেই নির্বাচক কমিটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন আলিম দার। দীর্ঘদিন আইসিসির এলিট আম্পায়ার প্যানেলে থাকার পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে তিনি পিসিবির নির্বাচক বোর্ডে যোগ দেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর অসন্তোষ চরমে পৌঁছয়।
বিশেষ করে টি-২০ বিশ্বকাপের দলে বাবর আজম ও শাদাব খানের মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়। জানা গিয়েছে, তাঁদের দলে নেওয়ার বিপক্ষে ছিলেন আলিম। তবু শেষ পর্যন্ত তাঁরা সুযোগ পান এবং প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হন। ফলে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।
চূড়ান্ত দল নির্বাচনে কোচ মাইক হেসনের প্রভাবও ভালভাবে নেননি আলিম দার। অভিযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে হেসন কার্যত একচ্ছত্র কর্তৃত্ব করেছেন। বোর্ডের আরেক নির্বাচক আকিব জাভেদ এই বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
আলিম দার সরে যাওয়ার পর এখন নির্বাচক প্যানেলে রয়েছেন আকিব জাভেদ, আসাদ শফিক ও ডাটা অ্যানালিস্ট উসমান হাশমি। তবে বিশ্বকাপ ব্যর্থতার জেরে পিসিবিতে আরও রদবদলের সম্ভাবনা জোরাল।
সুপার এইটে উঠলেও সেমিফাইনালে জায়গা করতে পারেনি পাকিস্তান। শোনা যাচ্ছে, এই ব্যর্থতার দায়ে দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে ৫ মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি করে জরিমানা করা হতে পারে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৬.২৮ লক্ষ টাকা।
ভারতের কাছে হারের পরই নাকি এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিল বোর্ড। তবে সেমিফাইনালে উঠতে পারলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। শেষ পর্যন্ত তা না হওয়ায় এখন কঠোর পদক্ষেপের দিকেই এগোচ্ছে বোর্ড।
সব মিলিয়ে আলিম দারের পদত্যাগ যেন পাকিস্তান ক্রিকেটের ভেতরের অস্থিরতারই প্রকাশ – আগামী দিনে আরও বড় পরিবর্তন আসবে কি না, সেটাই এখন দেখার।