চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ভারতের অন্যতম আইকনিক ব্র্যান্ড হিসেবে পার্লে জি দীর্ঘ সময় ধরে নিজের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। এই বিস্কুট ব্র্যান্ডটির সাফল্যের পেছনে রয়েছে সাধারণ বিপণন কৌশল এবং কার্যকরী ব্র্যান্ডিং। পার্লে জি-এর এই অভাবনীয় যাত্রার পেছনে মূল কারিগর ছিলেন মোহনলাল দয়াল, যাঁর উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প আজও অনুপ্রেরণা জোগায়।
মুম্বাইয়ে মোহনলাল দয়ালের হাত ধরেই এই ব্র্যান্ডের পথচলা শুরু হয়েছিল। ১৯২৮ সালে তিনি প্রথম মিষ্টান্ন বা ক্যান্ডির ব্যবসা শুরু করেন। তবে সেই সময় তিনি লক্ষ্য করেন যে বিস্কুট মূলত ব্রিটিশ অভিজাত এবং ভারতের ধনী ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। সাধারণ মানুষের কাছে বিস্কুট পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৩৮ সালে তিনি সম্পূর্ণভাবে বিস্কুট উৎপাদনে মনোযোগ দেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট দেখা দেয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ওপর রেশন ব্যবস্থা চালু হয়, তখন বহু পরিবারের পক্ষে দুবেলা খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়েছিল। এই কঠিন পরিস্থিতিতে পার্লে এমন একটি বিস্কুট তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় যা সাশ্রয়ী, শক্তিদায়ক এবং সাধারণ উপাদান যেমন গম, চিনি ও উদ্ভিজ্জ তেল দিয়ে তৈরি। এই পণ্যটি তখন সাধারণ মানুষের জন্য পুষ্টিকর ও পেটভরানো একটি সস্তা বিকল্প হিসেবে ত্রাতার ভূমিকা পালন করেছিল।
কোম্পানির মুম্বাইয়ের উৎসের সঙ্গে মিল রেখে ব্র্যান্ডটির নাম রাখা হয় পার্লে জি। শুরুর দিনগুলিতে এই জি শব্দের অর্থ ছিল গ্লুকোজ, কারণ স্বাস্থ্যগুণ বোঝাতে এটিকে গ্লুকোজ সমৃদ্ধ বিস্কুট হিসেবে বাজারজাত করা হতো। স্বদেশী আন্দোলনের সময় দেশীয় পণ্য হিসেবে পার্লে জি ভারতীয় ভোক্তাদের মনে বিশেষ জায়গা করে নেয়।

এরপর ১৯৬০-এর দশকে বাজারে ব্রিটানিয়া কোম্পানির কাছ থেকে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে পার্লে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা একটি নতুন কৌশল বেছে নেয়। বিস্কুটের প্যাকেটে এক ছোট মেয়ের ছবি যুক্ত করা হয়, যা পরবর্তীতে একটি আইকনিক প্রতীকে পরিণত হয়। এর পাশাপাশি জি অক্ষরটির নতুন নামকরণ করা হয় জিনিয়াস হিসেবে। কোম্পানিটি বিস্কুটের দাম নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়।
সময়ের সাথে সাথে পার্লে আরও বিস্তার লাভ করে এবং মোনাকো, ক্র্যাকজ্যাক ও হাইড অ্যান্ড সিকের মতো তিনটি আলাদা ব্র্যান্ড বাজারে নিয়ে আসে। ২০১৩ সালে প্রথম এফএমসিজি অর্থাৎ ফাস্ট মুভিং কনজিউমার গুডস ব্র্যান্ড হিসেবে খুচরা বাজারে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিক্রির রেকর্ড গড়ে পার্লে জি। এরপর ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এই বিক্রির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় আট হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়।
)
মোহনলাল দয়ালের দূরদর্শী চিন্তা এবং বাজারের গতিপ্রকৃতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাই পার্লে জি-কে ভারতের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছে। ২০১১ সালের নিয়েলসেন রিপোর্ট অনুযায়ী, পার্লে জি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া বিস্কুটের তকমা পায়। বর্তমান সময়ে মুদ্রাস্ফীতি এবং বাজারের নানা পরিবর্তনের মাঝেও পার্লে এই বিস্কুটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রেখেছে, যার ফলে ভারতের গ্রামীণ এলাকার বহু জায়গায় আজও মাত্র পাঁচ টাকায় এই বিস্কুট পাওয়া যায়।