চিত্রঃ নিজস্ব গ্রাফিক্স
Bangla Jago Desk: প্রথমে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, তারপর এশিয়া কাপ সীমিত ওভারের দুটি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েই অস্ট্রেলিয়াতে এসেছে টিম ইন্ডিয়া। এখানেও তাঁরা একদিনের ম্যাচের পাশাপাশি খেলবে টি-টোয়েন্টি ম্যাচও। রবিবার পার্থে একদিনের সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। এবং সেই সাক্ষাতে গৌতমের দলকে ৭ উইকেটে (One‑Day) পরাজিত করে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে আপাতত এগিয়ে গেল ক্যাঙারু বাহিনী।
আরও পড়ুনঃ বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসের নামে কালী মন্দির, কোথায় জানেন?
এবারের অস্ট্রেলিয়া সিরিজে সবার নজর ছিল দুই ভারতীয় ব্যাটার বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার দিকে। কেননা দুজনেই ইতিমধ্যে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। কাজেই ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপে তাঁদের দু’জনকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়েই ছিল আলোচনার বিষয়বস্তু। অনেকেই বলেছিলেন, এটাই বিরাট-রোহিতের শেষ পরীক্ষা। পাস করলে থাকবেন, না করলে হয়ত বিদায়ের পালা আসন্ন হয়ে উঠবে ‘রো-কো’ জুটির।
লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/Banglajagotvofficial
রবিবার প্রথম ম্যাচ শুরু হতেই সবার নজরে ছিলেন বিরাট ও রোহিত। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই তাঁদের ভাড়ার রইল শূন্য। অবশ্য শুধু ‘রো-কো’ জুটিই নয়, ব্যর্থতার তালিকায় নাম লেখালেন নবাগত অধিনায়ক শুভমন গিলও। টসে জিতে প্রথম বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অজি অধিনায়ক মিচেল মার্শ।
ম্যাচের শুরু থেকেই বৃষ্টি যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছিল না। একবার নয়, চার চারটিবার বন্ধ হল ম্যাচ। ফলে তারপর একপ্রকার বাধ্য হয়েই প্রথমে ৩২, তারপর তা কমে ২৬ ওভারের খেলা করার সিদ্ধান্ত নেন আম্পায়াররা। তবে ভারতের কপালে জোটে মাত্র নয় ওভার ব্যাট করার সুযোগ। (One‑Day)
দিনের শুরুটা কেমন হবে তার ইঙ্গিত পাওয়া যায় ম্যাচের শুরু থেকে। রবিবারের দিনটা যে তাদের হবে না, তার ইঙ্গিত বুঝি আগেই পেয়ে গিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। মাত্র ৮ রানের মাথায় হ্যাজালউডের বলে খোঁচা দিতে গিয়েই স্লিপে রেনশয়ের হাতে ধরা পড়েন হিটম্যান। এরপর ৮ বল খেলে কোনও রান না করেই ফেরেন বিরাট-ও। স্টার্কের বলে কোনোলি তালুবন্দি করেন তাঁর ক্যাচ।
এই ধাক্কা কাটতে না কাটতেই আবার ধাক্কা। এবার শুভমন। তাঁর সংগ্রহ মাত্র ১০। অধিনায়ক হিসেবে দেশের মাটিতে টেস্টে প্রথম শতরান করলেও অস্ট্রেলিয়ায় এসে একদিনের সিরিজের শুরুটা একেবারেই ভাল হল না পঞ্জাব কা পুত্তরের। নাথাম ইলিশের বলে ক্যাচ আউট হলেন শুভমন। (One‑Day)
এরপর ব্যর্থতার তালিকায় নাম উঠল শ্রেয়সের। এশিয়া কাপে যাঁকে দলে না নেওয়ায় এত আলোচনা, এত সমালোচনার ঝড় উঠেছিল, কিন্তু পঞ্জাব অধিনায়ক প্রথম ম্যাচে সেই ভরসা দিতে পারলেন না নির্বাচকদের। অল্প রানে চার উইকেট হারিয়ে তখন ভারতের অবস্থা আইসিইউতে থাকা রোগীর মত।
ঠিক এই সময় অক্ষরকে সঙ্গী করে ক্রিজে এসে দলকে বাঁচানোর অক্সিজেন দিতে লাগলেন কেএল রাহুল। দুজনের জুটিতে ৬৯ রান উঠল। রাহুল ৩৮ রানে ওয়েনের বলে ক্যাচ তুলে ধরা পড়লেন রেনশোর হাতে, তারপর ৩১ রানে ফিরলেন অক্ষরও। এই দুজনের পরবর্তী ব্যাটার হিসেবে কিছুটা ওয়াশিংটন ও নীতীশ চেষ্টা করলেও বাকিরা সবাই আয়ারাম ও গয়ারাম। শেষ পর্যন্ত ভারতের রান দাঁড়ায় ৯ উইকেটের বিনিময়ে ১৩৬ রান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে অজিদেরও শুরুটা ভাল হয়নি। ৮ রানের মাথায় হ্যাজালউডকে ফেরালেন অর্শদীপ। একই অক্ষর ফেরালেন শর্টকে। কিন্তু মার্শ ও ফিলিপের জুটিই অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করে দেয়।
ফলে ৫০ ওভারের তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আগামী ২৩ অক্টোবর অ্যাডিলেডে ফের দুই দল মুখোমুখি হবে। এখন দেখার শেষ পর্যন্ত ভাইটাল ম্যাচে রোহিত-বিরাট ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে পারেন কি না! (One‑Day)