চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে জয় পেলেও, ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এল নাওমি ওসাকার আচরণ। কোর্টের একটি মুহূর্ত ঘিরে প্রকাশ্যে সমালোচনায় মুখ খুললেন টেনিস দুনিয়ার দুই কিংবদন্তি—মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা এবং লিন্ডসে ড্যাভেনপোর্ট। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, ওসাকা ‘সাধারণ টেনিস শিষ্টাচার’ মানেননি।দ্বিতীয় রাউন্ডে রোমানিয়ার সোরানা সিস্তেয়াকে হারান ওসাকা। কিন্তু ম্যাচ চলাকালীন একটি ঘটনা বিতর্কের জন্ম দেয়। সিস্তেয়ার প্রথম সার্ভ মিস হওয়ার পর, দ্বিতীয় সার্ভ দেওয়ার ঠিক আগেই জোরে ‘কাম অন’ বলে চিৎকার করেন ওসাকা। এতে বিরক্ত হন সিস্তেয়া। ম্যাচ শেষে হ্যান্ডশেকেও সেই অস্বস্তি চোখে পড়ে। ঘটনার রেশ কাটেনি অন-কোর্ট ইন্টারভিউতেও। ওসাকার মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তোলে। যদিও পরে তিনি স্বীকার করেন, তাঁর আচরণ ‘অসম্মানজনক’ ছিল এবং সে জন্য ক্ষমাও চান। তবে ততক্ষণে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে টেনিস মহলে।
এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ম্যাচের শেষে ওসাকা যা বলেছে, তা হয়তো মুহূর্তের উত্তেজনা থেকে এসেছে। কিন্তু প্রতিপক্ষের প্রথম ও দ্বিতীয় সার্ভের মাঝখানে জোরে কথা বলা একেবারেই ঠিক নয়।’ নাভ্রাতিলোভার কথায়, ‘সিস্তেয়া তখন দ্বিতীয় সার্ভের জন্য প্রস্তুত ছিল। ঠিক সেই সময় ‘কাম অন’ বলা যায় না। আমি বিশ্বাস করি না, ওসাকা ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে। কিন্তু নিজেকে উজ্জীবিত করতে চাইলে সেটা মনে মনে করাই শ্রেয়।’
একই সুরে কথা বলেছেন লিন্ডসে ড্যাভেনপোর্টও। বয়স বা অভিজ্ঞতার অজুহাত মানতে নারাজ তিনি। ড্যাভেনপোর্ট বলেন,‘ওসাকার বয়স ২৮। বহু বছর ধরে সে ট্যুরে খেলছে। এটা এমন একটা বিষয়, যেটা তুমি করো না—এতটাই সহজ।’তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা সবাই জানি, ওসাকার মধ্যে কোনও খারাপ মনোভাব নেই। তাই আমি অবাক হব, যদি সে আবার এমন কিছু করে। আবেগ প্রকাশের অনেক উপায় আছে—উরুতে চাপড় মারা যায়। কিন্তু প্রতিপক্ষের সার্ভের মাঝখানে চিৎকার? এটা বেসিক টেনিস এটিকেট ১০১।’নিজের আবেগ প্রকাশ আর প্রতিপক্ষের মনোযোগে হস্তক্ষেপ—এই দুইয়ের সীমারেখা টেনিসে বরাবরই স্পষ্ট। নাভ্রাতিলোভা ও ড্যাভেনপোর্টের মতো কিংবদন্তিরা সেই সীমারেখাই আবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন। এই ঘটনার পর ওসাকা ক্ষমা চেয়েছেন।