ad
ad

Breaking News

Messi

যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলার ঘটনায়  উদ্যোক্তাকে কটাক্ষ শিল্টন-মেহতাবের

দীর্ঘ অপেক্ষার পর সামান্য অনুশীলন শেষে ম্যাচ শুরু হলেও, লিওনেল মেসি মাঠে প্রবেশ করতেই হঠাৎ ম্যাচ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

messi-kolkata-chaos-fans-frustrated

চিত্রঃ নিজস্ব গ্রাফিক্স

Bangla Jago Desk: লিওনেল মেসিকে ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে অনুষ্ঠান ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা ছিল, তা শেষ পর্যন্ত রূপ নিল চরম বিশৃঙ্খলায়। হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে এসেও মাঠে প্রিয় তারকার খেলা বা কাছ থেকে উপস্থিতি উপভোগ করতে পারেননি দর্শকরা। মাঠের বাইরের অব্যবস্থার পাশাপাশি ভিতরেও ছড়িয়ে পড়ে বিশৃঙ্খলা, যার সরাসরি সাক্ষী ছিলেন মাঠে নামা প্রাক্তন ফুটবলাররাই।মোহনবাগান ও ডায়মন্ড হারবার এফসি’র মধ্যে একটি প্রদর্শনী ম্যাচ হওয়ার কথা থাকলেও তা কার্যত কয়েক মিনিটেই সীমাবদ্ধ থাকে। সেই ম্যাচ ঘিরেও দেখা যায় চূড়ান্ত পরিকল্পনার অভাব। সকাল থেকেই প্রাক্তন ফুটবলাররা যুবভারতীতে উপস্থিত হয়ে অনুশীলন শুরু করলেও আচমকাই তাঁদের মাঠ ছাড়তে বলা হয়। 

দীর্ঘ অপেক্ষার পর সামান্য অনুশীলন শেষে ম্যাচ শুরু হলেও, লিওনেল মেসি মাঠে প্রবেশ করতেই হঠাৎ ম্যাচ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই গোটা ঘটনায় মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তের দিকেই আঙুল তুলেছেন মোহনবাগান মেসি অল স্টারের অধিনায়ক শিল্টন পাল ও ডায়মন্ড হারবার মেসি অল স্টারের ফুটবলার মেহতাব হোসেন। শিল্টন পাল বলেন, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে যে এখানে এমন অবস্থা হয়েছে, এটা আমাদের জন্য লজ্জার। দর্শকদের কোনও দোষ নেই। পরিকল্পনাই ঠিক ছিল না। কখন মাঠে নামব, কোথায় বসব—কিছুই আমাদের জানানো হয়নি।

মেসি মাঠে ছিলেন মাত্র প্রায় ২০ মিনিট। তাও মূলত মাঠের মাঝখানেই। গোটা স্টেডিয়াম ঘুরে দর্শকদের অভিবাদন জানালে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেত বলে মনে করছেন অনেকেই। কিন্তু উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভিড়ে কার্যত ঢেকে যান বিশ্বতারকা। গ্যালারির উদ্দেশে হাত নাড়লেও তা অধিকাংশ দর্শকের চোখে পড়েনি। মেহতাব হোসেনের কথায়, মেসির গাড়িতে সানরুফ ছিল। সেটি খুলে মাঠ পরিক্রমা করানো যেত। মেসি একটা ব্র্যান্ড, সামনে বিশ্বকাপ। তাঁর জন্য আলাদা নিরাপত্তা থাকা উচিত ছিল। এত লোক তাঁকে ঘিরে থাকলে সমস্যা হবেই। পুরো ঘটনার দায় উদ্যোক্তাদেরই।অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। মেসির কাছে যাওয়ার সময় লালকমল ভৌমিক, সংগ্রাম মুখোপাধ্যায়ের মতো প্রাক্তন ফুটবলারদেরও উদ্যোক্তাদের হাতে অপমানিত হতে হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় শুধু দর্শকরাই নন, হতাশ প্রাক্তন ফুটবলার ও মেসিভক্তরাও। ফুটবলের শহর কলকাতা থেকে এমন এক তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরতে হল বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকাকে—যা নিঃসন্দেহে বাংলার ক্রীড়াজগতের জন্য অস্বস্তিকর ও লজ্জার।