চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: শনিবার রাতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্যারাগুয়ের কঠিন ডিফেন্সের মুখে পড়েছিল দিদিয়ের দেশঁর ফ্রান্স। আগাগোড়া ফরাসি ব্রিগেড দাপট দেখালেও প্যারাগুয়ের শরীরী ফুটবল এবং আটসাঁট রক্ষণভাগ ভাঙতে কালঘাম ছুটে যায় এমবাপেদের। ম্যাচের ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। কিন্তু গোটা ম্যাচজুড়ে প্যারাগুয়ের ফুটবলাররা ফরাসি তারকাদের এতটাই বিরক্ত ও ফাউল করছিলেন যে, মাঠে ফুটবলীয় সৌন্দর্যের চেয়ে শারীরিক আস্ফালনই বেশি চোখে পড়েছে।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর যখন কিলিয়ান এমবাপে গ্যালারির সমর্থকদের দিকে তাকিয়ে জয়ের উল্লাস করছিলেন, ঠিক তখনই প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক ওর্ল্যান্ডো গিল একটি ফুটবল এমবাপের দিকে সজোরে ছুড়ে মারেন। কেন এমন করলেন? ম্যাচ শেষে গিল ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “এমবাপে গোটা ম্যাচজুড়ে মাঠের ভেতর আমাকে স্লেজিং করে বিরক্ত করেছিল। ম্যাচ শেষে আমি সৌজন্যবশত ওর সঙ্গে করমর্দন (Handshake) করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু ও অহংকার দেখিয়ে আমাকে ইগনোর করে চলে যায়। তাই আমার মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল।” যদিও প্যারাগুয়ে গোলরক্ষক দাবি করেছেন যে বিতর্ক ওখানেই শেষ, কিন্তু বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা (FIFA) ইতিমধ্যেই এই অনভিপ্রেত ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে।
এদিকে ম্যাচ জিতলেও দলের ফুটবল শৈলী নিয়ে খুব একটা সন্তুষ্ট নন খোদ ফরাসি অধিনায়ক। তবে প্যারাগুয়ের মতো কঠিন দলকে হারাতে যে ‘নোংরা ফুটবলের’ আশ্রয় নিতে হয়েছে, তা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই নতুন গ্যালাকটিকো। এমবাপে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “প্রতিপক্ষ দল ভেবেছিল আমরা বুঝি মাঠে শুধু সুন্দর ও শৈল্পিক ফুটবল খেলতেই অভ্যস্ত। কিন্তু আজ আমরা প্রমাণ করে দিয়েছি, দরকার পড়লে আমরাও কঠিন, আগ্রাসী ও নোংরা ফুটবল খেলে ম্যাচ বের করতে জানি। ওরা আমাদের শান্ত মাথাটা খারাপ করতে চেয়েছিল, উল্টে আমরাই ওদের মাথা খারাপ করে মাঠ থেকে বিদায় করে দিলাম।” এমবাপের এই ড্যাম-কেয়ার মন্তব্য এবং মাঠের এই ধুন্ধুমার কাণ্ড নিয়ে আপাতত উত্তাল ফুটবল দুনিয়া।