চিত্রঃ নিজস্ব গ্রাফিক্স
Bangla Jago Desk: আজ এতদিন হয়ে গেলেও নাপোলির আকাশ-বাতাস জুড়ে এখনও যেন প্রয়াত মারাদোনার স্মৃতি ছড়িয়ে আছে। নাপোলির মানুষেরা এখনও মনে করেন, দিয়াগো তাঁদের সঙ্গে আছেন, ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। তিনি কোথাও যেতে পারেন না। আর গেলেও যেখানেই যান না, নাপোলিকে তিনি কিছুতেই ভুলতে পারবেন না। এটা স্বাভাবিক!
দিয়াগো আর্মান্দো মারাদোনার মৃত্যুর পর তাঁর নামেই নিজেদের ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়ামটি উৎসর্গ করে নামকরণ করা হয়েছিল ‘স্টাডিও দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা’-র নামে। কিন্তু বর্তমানে এই মাঠটি নিয়ে চূড়ান্ত হতাশা প্রকাশ করেছেন নাপোলির বর্তমান মালিক আরেলিও ডি লরেন্তিস। এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেদের স্টেডিয়ামকে ‘আর্বজনার স্তূপ’ বলেও বর্ণনা করেছেন। এবং তাঁর দাবি, ‘অবিলম্বে এই মাঠটির পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি’।
এই প্রসঙ্গে মিলানে ফুটবল বিজনেস ফোরামের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এমন মন্তব্য করেন ডি লরেন্তিস। তিনি বলেন, ‘এই মারাদোনা স্টেডিয়াম থেকে আমরা সর্বোচ্চ তিন মিলিয়ন ইউরো আয় করতে পারি। কিন্তু এসি মিলান আর ইন্টার মিলান তাদের হোম ম্যাচ থেকে ১৪ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত আয় করে। সুতরাং পার্থক্যটা সহজেই অনুমেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি একই কথা বলেছিলাম, ২০১৮ সালেও। যখন (কার্লো) আনসেলত্তি এসেছিলেন। অপর দিকে পিএসজি তাদের স্টেডিয়ামের জন্য আমাদের মতোই ভাড়া দেয়, কিন্তু তারা বছরে ১০০ মিলিয়ন ইউরো আয় করে, কারণ ওদের সম্পূর্ণ একচ্ছত্র অধিকার রয়েছে স্টেডিয়ামটির ওপর। আর আমরা স্টেডিয়াম পাই মাত্র তিন দিনের জন্য ম্যাচের আগের দিন, ম্যাচের দিন, আর পরের দিন। এটা নিশ্চই ঠিক নয়।’
এখানেই শেষ নয়, নাপোলির মালিকের আরও সংযোজন,
‘এটা একেবারে পুরনো ধাঁচের স্টেডিয়াম। এখানে অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক, এমনকি একটি পরিখা আছে, যা দর্শকদের আরও দূরে করে দেয়। এই বিষয়টিও নজরে রাখা প্রয়োজন। ইতিমধ্যে অন্যতম বিখ্যাত দুই ক্লাব এসি মিলান ও ইন্টার মিলান ইতিমধ্যে শহর কাউন্সিলের কাছ থেকে ১৯৭ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে সান সিরো কিনে নিয়ে সেটি ভেঙে অত্যাধুনিক নতুন অ্যারেনা নির্মাণের পরিকল্পনা কর ফেলেছে। কাজেই আমিও নাপোলির জন্য নিজের অর্থ দিয়ে ৭০ হাজার দর্শক আসন বিশিষ্ট নতুন স্টেডিয়াম তৈরি করতে চাই।’
এর পাশাপাশি ফুটবল প্রশাসকদের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানকার প্রশাসকরাই ফুটবলের সবচেয়ে বড় শত্রু। তাঁরা বোঝেন না এখানে অন্তত ২ কোটি ৫০ লক্ষ ভোটার আছেন, যাঁরা এই খেলাটিকে ভালোবাসেন। আমাদের আরও স্বাধীনতা দিতে হবে, যেন ক্লাবগুলো নিজেরাই স্টেডিয়াম বানাতে পারে বা পুরোনো স্টেডিয়ামটিকেই নতুনভাবে তৈরি করতে পারেন। কেননা বাসস্থান-সংযুক্ত প্রকল্প থাকলে সেখান থেকেও দীর্ঘমেয়াদি আয় আসবে।