চিত্রঃ সংগৃহীত
AK Bangla 24×7 Digital: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচিতে এবার বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তের মতে, কোনও নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট ছাড়া ইচ্ছেমতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের পদ্ধতি আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ক্রিকেটকে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রতিটি সিরিজে দর্শকের আগ্রহ তৈরি করার মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও গুরুত্ব থাকা দরকার।
সংযোগ গুপ্ত মনে করেন, ক্রিকেট আয়োজন করতে বিপুল অর্থ এবং অন্যান্য সম্পদ বিনিয়োগ করতে হয়। তাই শুধু সূচি পূরণের জন্য ম্যাচ আয়োজন করলে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ কমতে পারে। তাঁর মতে, প্রেক্ষাপট, ক্রিকেটীয় সংস্কৃতি, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং প্রতিযোগিতার আবহ— এই ৪টি বিষয়কে সামনে রেখেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে হবে।
এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে দ্বিপাক্ষিক একদিনের সিরিজেও। তবে একদিনের ক্রিকেটকে বাদ দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট করেছেন গুপ্ত। তাঁর মতে, পুরুষ ও মহিলা বিশ্বকাপের সঙ্গে একদিনের ক্রিকেটকে আরও গভীরভাবে যুক্ত করে এই সংস্করণকে নতুনভাবে জনপ্রিয় করা সম্ভব।
টি-২০ ক্রিকেটের বিপুল জনপ্রিয়তা এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চালু হওয়ার পর একদিনের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। টেস্ট ক্রিকেট যেখানে দুই বছরের প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো পেয়েছে, সেখানে একদিনের ক্রিকেটের ক্ষেত্রে বিশ্বকাপকেন্দ্রিক পরিকল্পনাই এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
২০২৭ সালের বিশ্বকাপের কাঠামোতেও পরিবর্তন এনেছে আইসিসি। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে এবং নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে চলা এই প্রতিযোগিতায় নতুন পর্ব যুক্ত হয়েছে। তবে এই পরিবর্তন নিয়ে স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের মতো সহযোগী সদস্য দেশের ক্রিকেট বোর্ড আপত্তি জানিয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট নিয়ে প্রাক্তন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক গ্রেম স্মিথও আগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর মতে, শীর্ষ দলগুলির মধ্যে না হলে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে অনেক সময় প্রয়োজনীয় প্রেক্ষাপট ও ধারাবাহিকতা থাকে না। জন্টি রোডসও মনে করেন, ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক একদিনের সিরিজের সংখ্যা কমে যেতে পারে। তবে একদিনের ক্রিকেট পুরোপুরি হারিয়ে যাবে বলে মনে করেন না রোডস। তাঁর মতে, এই সংস্করণের সঙ্গে ক্রিকেটপ্রেমীদের আবেগ গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ফলে আইসিসির সামনে এখন বড় কাজ হল, অপ্রয়োজনীয় দ্বিপাক্ষিক সিরিজ কমিয়ে একদিনের ক্রিকেটকে আরও অর্থবহ করে তোলা। আগামী আন্তর্জাতিক সূচি চক্রে সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।