চিত্র : সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: যুধাজিৎ মুখোপাধ্যায়, বিসিসিয়াই কোচ ও প্রাক্তন ক্রিকেটার: মুম্বই এর বোলারদের দাপটে খেলাটি প্রথম পাওয়ার প্লেতেই শেষ হয়ে গিয়েছিল বললে খুব একটা ভুল হবে না। ওয়াংখেড়েতে এটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত নয়। দিনরাতের খেলায় প্রথমে সবসময়ই বোলাররা সাহায্য পেয়ে এসেছে।
তার ওপর অর্ধ শতাব্দী প্রাচীন এই স্টেডিয়াম মুম্বই ইন্ডিয়ান্সদের প্রিয় শিকার ক্ষেত্র। গতবছরের জয়টি বাদ দিলে তার আগের ১৬ বছরে এখানে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে কেকেআর জিতেছে মাত্র ১ বার।
তার মধ্যে একবার তো কেকেআর-এর মালিক শারুখ খানকে সাসপেন্ড করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। সব মিলিয়ে এখানে নাইটরা যে দারুণ কিছু করবে সে আশা অতি বড় কেকেআর সমর্থকও হয়তো করেন না।
কিন্তু গত কয়েক বছরে নাইটরা ৪ বার জিতেছে ৫ বারের সাক্ষাতে। তাই কিছুটা হলেও কলকাতা সমর্থকরা আশা করেছিলেন ভাল কিছু করার। কিন্তু সেই পুরনো ধারা বজায় রেখেই ৭ ওভারের মধ্যে নাইটদের অর্ধেক উইকেট তুলে নিয়ে মুম্বই ম্যাচটা নিজেদের পকেটে নিয়ে নেয়।
এখানে মনে রাখতে হবে যে গত বছরও নাইটরা এরকমই বিপর্যয়ের সামনে পড়ে। ৭ ওভারের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতে ছিল মাত্র ১৬৯ রান রক্ষা করে। কিন্তু এবারে মুম্বইয়ের হয়ে ৪ উইকেট নেওয়া অশ্বিনি কুমার এবং বাকি বোলারদের দাপটে একসময় সন্দেহ হচ্ছিল নাইটরা ১০০ রানের গণ্ডি পেরবে কি না।
কেকেআরের নক্ষত্রদের দেখে মনে হচ্ছে তাঁরা খুব চাপে আছেন। এবং মনে হচ্ছে যেনো তাঁরা পালাতে পারলে বাঁচেন। রাসেল ও নারিনরা হয়তো বা বয়সের ভারে, আর নতুন তারকা রিঙ্কু এবং ভেঙ্কটেশরা হয়তো বা প্রত্যাশার ভারে।
টি-টোয়েন্টিতে এ খোলা মনে খেলতে না পারলে কয়েক ওভারের মধ্যেই খেলা থেকে নক আউট হয়ে যাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। তাছাড়া এবারের কেকেআর দলে সারপ্রাইস এলিমেন্টের অভাব প্রকট হয়েছে।
মুম্বই যেমন দুটো ম্যাচ হেরে দুম করে আনকরা অশ্বিনিকে খেলিয়ে নাইটদেরকে ছন্নছাড়া করে দিল, ঠিক সেইরকম অস্ত্র নাইটদের দলে দেখা যাচ্ছে না। এতবার মুম্বইকরদের কাছে তাঁদের ঘরের মাঠে ধরাশায়ী হয়েও নাইট ক্রিকেটারদের একবারও মনে হল না তাঁরা কোনও শিক্ষা নিয়েছেন।
এভাবে চললে এবারের আইপিএল-এর নকআউট পর্বে যাওয়া বেশ কঠিন হতে পারে। কিন্তু আশার কথা অধিনায়ক রাহানেও একজন পোড় খাওয়া অধিনায়ক। সঙ্গে আছেন মেন্টর ব্র্যাভো এবং স্বয়ং কোচ পণ্ডিত মশাই।
[আরও পড়ুন: বাগুইআটিতে রহস্যমৃত্যু! ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার বার নর্তকীর দেহ]
কিন্তু অস্ত্র ভাণ্ডার সেইরকম সমৃদ্ধ না হলে সেনাপতি কি করবেন! কেকেআর বহুল প্রচারিত এবং বহু জনপ্রিয় একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল। কিন্তু ভাল ফল নাহলে সমালোচকরা কেউই ছেড়ে কথা বলবেন না। তার ওপর নাইট ম্যানেজমেন্ট (পড়ুন ভেঙ্কি মাইশোর!) এর বাঙালি ক্রিকেটার দলে না নেওয়ার ইতিহাসও সবাই জানেন।
শোনা যাচ্ছে, অশ্বনী নাইটদের দলে ট্রায়ালে এলেও তাঁকে দলে নেওয়া হয়নি। সুতরাং নির্বাচকদের দক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন থেকেই যায়। এরওপর আরও যোগ হয়েছে ইডেনে পিচ বিতর্ক। স্পিনারদের অফ ফর্ম এবং আপাত ভঙ্গুর মিডল অর্ডার। অতএব- নাইট রাইডার্সের নাবিকরা হুঁশিয়ার। সামনে বিপজ্জনক পারাবার! শিগগিরই ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে এবারে কিন্তু শূন্য হাতে ফিরতে না হয় কিং খানের দলকে।