চিত্র : সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ইন্দুভূষণ রায়, প্রাক্তন ক্রিকেটার: সোমবার আইপিএল-র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের মুখোমুখি হয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। এই ম্যাচে নাইট ব্যাটারদের পারফরম্যান্স দেখে আমার মনে দারুণ হতাশ লেগেছে। একটা সময় মনে মনে ভাবছিলাম নাইটরা আইপিএল-র ইতিহাসে সবচেয়ে লজ্জার হারের সম্মুখীন হতে চলেছে। কিন্তু ভাগ্য কিছুটা সহায় থাকায় তা আর হয়নি। তবুও আট উইকেটে হারাটা কম লজ্জার নয়।
আসল কি কথা আমি বরাবরই বলেছি, এবারের আইপিএল-এ নাইট টিম ম্যানেজমেন্ট যে টিম গড়ছেন তাতে এমন কোনও ব্যাটার নেই, যিনি ব্যক্তিগত ক্ষমতায় নাইটদেরকে জয় এনে দেবেন। শ্রেয়স আইয়ার, ফিল সল্ট এঁদের ছেড়ে দেওয়ার মাশুল এবার শুরু থেকেই গুণতে হচ্ছে চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের দলকে। এটাই ভবিতব্য। যা হচ্ছে, এরমধ্যে কোনও ভুল নেই। এটা হওয়ার কথা। ভেঙ্কেটশ, রিঙ্কু একেবারে ব্যর্থ। যেটুকু লড়াই করছেন তিনি হলেন অঙ্কৃশ। বাকিরা কোথায়!
আমাকে সবচেয়ে অবাক করেছেন রিঙ্কু সিং। তিনটে ম্যাচ হয়ে গেল, এখনও সেই ফর্মের ধারে কাছে নেই। আর কবে রিঙ্কুকে পুরনো ছন্দে দেখতে পাব তা একেবারেই অজানা আমার কাছে। পাশাপাশি আমি অবাক হচ্ছি ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে দেখেও। এত দাম দিয়ে তাঁকে দলে নিয়ে এখন তো মনে হচ্ছে ভেঙ্কটেশ দলের বোঝা হয়ে উঠছেন।
এই জায়গায় দাঁড়িয়ে নাইট টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে আমার জানতে ইচ্ছা করে কেন আপনারা বাংলার ক্রিকেটারদের দলে নিতে আগ্রহ দেখান না? অভিষেক পোড়েল, মহম্মদ শামিরা দিনের পরদিন বাংলার হয়ে খেলছেন, অথচ আইপিএল-র সময় তাঁদের কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে জায়গা হয় না।
অদ্ভুত লাগে গোটা বিষয়টা। রাহানে কি অধিনায়ক করার কোনও যুক্তি আছে বলে আমার মনে হয় না। রাসেল, নারিনের বিষয়েও ভাবনা-চিন্তা করা উচিত। কিন্তু ওই যে কথায় আছে না কেউ যদি জেগে ঘুমোন তাহলে তাঁকে ঘুম পাড়ানো যায় না। নাইট কর্তাদের ঠিক এই অবস্থাই হয়েছে।
ইদানিং আরও একটা জিনিষ আমার নজরে পড়ছে, সেটা হল মাঠের পিচ কি রকম হবে, কি রকম হলে ভাল হয়, ইত্যাদি বিষয়গুলি নিয়ে বড্ড বেশি মাথা ঘামাচ্ছেন নাইট কর্তারা। অদ্ভুত ব্যাপার নিজের দলের খেলোয়াড়রা খেলতে পারছেন না, আর কর্তারা বলছেন পিচের দোষ, মাঠের দোষ।
[আরও পড়ুন: জৈন মহাবীরের ভ্রমণকালে তাঁর পিছনে এরা কুকুর লেলিয়ে দিয়েছিল, জানেন সে ইতিহাস?]
আসলে ‘নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা’ এটাই হচ্ছে নাইটদের ক্ষেত্রে। একবারও ভেবে দেখেছেন টার্নিং উইকেট দাবি করছেন নাইটরা। কিন্তু যখন টার্নিং উইকেটে দল ব্যর্থ হবে তখন কি বলবেন? তখন আর কোনও যুক্তিই খাটবে না। তখন অভিযোগের আঙুল উঠবে পিচ কিউরেটারের দিকে।
আসলে টিম যখন পারফর্ম করতে পারে না, তখন কর্তা থেকে শুরু করে খেলোয়াড় সকলেই বাজে কথা বলতে থাকেন। নাইটদের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। কাজেই নাইট কর্তাদের কাছে আমার অনুরোধ মাঠের বাইরের ব্যাপারে মাথা না ঘামিয়ে দলের দিকে নজর দিন। তাতে আখেরে লাভবানই হবেন।