চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব ফুটবলেও অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলেছে। বিশেষ করে ইরানের ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা শঙ্কা ও বিতর্ক। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পরিস্থিতি যখন ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল, তখন ইরান ‘শত্রু’ দেশে দল পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করে ভেনু পরিবর্তনের দাবিও জানায়। তবে এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো শুরু থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেবে এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি এক অর্থনৈতিক সম্মেলনে তিনি আবারও এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও ইরান অবশ্যই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে এবং তখন পরিস্থিতি শান্ত থাকবে— এমনটাই প্রত্যাশা সবার জন্য মঙ্গলজনক।
ইনফান্তিনো ইরানের অংশগ্রহণের যৌক্তিকতাও তুলে ধরেছেন জোরালভাবে। তিনি বলেন, একটি দেশের জাতীয় দল তার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে এবং তারা নিজেদের যোগ্যতায় বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। খেলোয়াড়দেরও খেলার অধিকার রয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, খেলাধুলা রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা উচিত এবং যদি কেউ এই সেতুবন্ধন তৈরি করতে না পারে, তবে সেই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত ফিফা।
তবে পরিস্থিতি এতটা সহজ ছিল না। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার পর ইরান প্রথমে বিশ্বকাপ বয়কটের ইঙ্গিত দেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এমন অবস্থায় ইরান তাদের ম্যাচ মেক্সিকোতে সরানোর দাবি জানালেও ফিফা তা নাকচ করে দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রেই খেলার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
এদিকে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। তবুও সব বাধা পেরিয়ে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ এখন অনেকটাই নিশ্চিত। আগামী জুনে শুরু হতে যাওয়া এই আসরে ক্যালিফোর্নিয়ায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরু করবে ইরান। এরপর বেলজিয়াম ও মিশরের বিপক্ষে খেলবে তারা।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও ফুটবল যে মানুষকে একত্রিত করার শক্তি রাখে, সেটিই আবারও মনে করিয়ে দিল এই পরিস্থিতি।