চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: আইপিএলের জাঁকজমকের আড়ালে এবার বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে মাঠের বাইরের জীবনযাপন। ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও তাঁদের প্রকাশ্য উপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অন্দরমহলে। বিশেষ করে চলতি মরশুমে একাধিক তারকা ক্রিকেটারকে তাঁদের সঙ্গিনীদের সঙ্গে টিম বাস, অনুশীলন সফর এবং হোটেলে একসঙ্গে দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনাগুলি নিয়ে বোর্ডের একাংশ মনে করছে, পেশাদার ক্রিকেট পরিবেশে এর প্রভাব পড়ছে। আইপিএলের মতো বড় টুর্নামেন্টে শৃঙ্খলা ও মনোযোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, আর সেখানে ব্যক্তিগত উপস্থিতির কারণে কখনও কখনও অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা। অভিযোগ, কিছু সঙ্গিনী ইনফ্লুয়েন্সার হিসাবে পরিচিত, যাঁদের অতীতে নানা ধরনের বিজ্ঞাপন ও প্রচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার রেকর্ড রয়েছে। এতে ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাঁদের উপস্থিতি শুধু আলোচনাই তৈরি করছে না, বরং দলের ভাবমূর্তির উপরেও প্রভাব ফেলছে বলে মনে করা হচ্ছে। বোর্ডের ভেতর থেকে আসা তথ্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে টিম বাস দেরি করে ছাড়ছে, কারণ সঙ্গিনীদের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার টিম হোটেলে অপ্রয়োজনীয় ভিড় এবং মেলামেশার ঘটনাও সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা ও টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হল তথ্য নিরাপত্তা। বোর্ডের আশঙ্কা, খেলোয়াড়দের আশেপাশে থাকা বহিরাগতদের মাধ্যমে অজান্তেই দলের ভেতরের কৌশল বা সংবেদনশীল তথ্য বাইরে চলে যেতে পারে, যা ম্যাচের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বোর্ডের এক উচ্চপদস্থ কর্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখনই এই প্রবণতা বন্ধ না করলে ভবিষ্যতে বড় সমস্যার জন্ম নিতে পারে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে ‘আনুষ্ঠানিক সঙ্গিনী’ নামে একটি ধারণা চালু হল, যেখানে বোর্ডের নথিতে শুধুমাত্র স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদেরই নির্দিষ্ট নিয়মে অনুমতি দেওয়ার কথা বলা আছে। এছাড়া বোর্ডের নজরে এসেছে, কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন ইউনিটের কিছু পর্যবেক্ষকও বিষয়টি ঠিকভাবে যাচাই না করেই অনুমতি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে নিয়মের প্রয়োগ নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এই পরিস্থিতিতে আগামী বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে বোর্ড। শুধু আইপিএল নয়, ভবিষ্যতে ভারতীয় জাতীয় দলের বিদেশ সফরেও একই ধরনের কঠোর নির্দেশিকা আনার পরিকল্পনা রয়েছে। টিম বাস, হোটেল, সফর— সব ক্ষেত্রেই নতুন করে সীমারেখা টানার ভাবনা চলছে। সব মিলিয়ে ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় টুর্নামেন্টের ভেতরে এখন নতুন এক বিতর্ক ঘনীভূত হচ্ছে— যেখানে প্রশ্ন শুধু খেলার নয়, বরং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত জীবনের স্বাধীনতা আর পেশাদার শৃঙ্খলার ভারসাম্য নিয়েই।