চিত্রঃ নিজস্ব গ্রাফিক্স
Bangla Jago Desk: ক্রিকেটের নন্দনকাননে ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম টেস্ট শুরু হওয়ার আগে একটাই বিষয় সবার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল, সেটা হল পিচ কিরকমভাবে তৈরি করা হয়েছে। কেননা টিম ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছিল টার্নিং উইকেট দেওয়ার জন্য। অবশ্যই ইডেনের পিচ প্রথম থেকেই যেন টার্নিং পিচের মতোই আচরণ করতে শুরু করল। যা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি দুই দলের ক্রিকেটাররা। অবশ্য এই পিচে স্পিনাররা কিছুটা ম্রিয়মান থাকলেও বল হাতে জ্বলে উঠলেন বুমরা। যার সুবাদেই মাত্র ১৫৯ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল প্রোটিয়ারা।
এরপর শনিবার দ্বিতীয় দিনে ক্রিজে আসেন শুক্রবারের দুই অপরাজিত ব্যাটার রাহুল এবং ওয়াশিংটন। এই টেস্ট রাহুলের ৬৬তম টেস্ট ম্যাচ। সেই ম্যাচেই ৪,০০০ রান পূর্ণ করে ফেলেন রাহুল। দ্বিতীয় দিনের ম্যাচে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে প্রথম আউট হলেন ওয়াশিংটন। যে কোনও দলের ব্যাটিং লাইন আপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হল ৩ নম্বর পজিশন। একটা সময় এই পজিশনে ভারতীয় দলে ব্যাটিং করেছেন রবি শাস্ত্রী, দিলীপ ভেঙ্গসরকার, এমনকি পরবর্তীতে রাহুল দ্রাবিড়, চেতেশ্বর পূজারার মতো ক্রিকেটাররা। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে নেমে পুরোপুরি প্রোটিয়াদের বিপক্ষে পুরোপুরিই ব্যর্থ হলেন ওয়াশিংটন।
এরপর শুভমনের সঙ্গে রাহুল জুটি বেধে দলকে টানার চেষ্টা করেন। অবশ্য এই জুটি ক্রিজে সেট হওয়ার আগেই বিপদ বাড়ে গম্ভীরের সংসারের। হারমারের বোলিং মোকাবিলার সময়ই পেশিতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় দলনেতাকে। ফলে চাপ বাড়ে টিম ইন্ডিয়ার।
শুভমন ফিরে যেতে ক্রিজে এসে পন্থ সঙ্গী হন কেএল রাহুলের। কিন্তু পিচে যেন ততক্ষণে পুরো নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে ফেলেছেন জানশেন, হারামাররা। তখন যেন মনে হচ্ছিল এ তো দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের প্রতিচ্ছবি। একে রাহুল, পন্থরা ফিরে যান সাজঘরে। ব্যর্থতার তালিকায় নাম লেখালেন ঘরোয়া ট্রফিতে আলোড়ন ফেলা ধ্রুব জুরেলও। ফলে বড় রানের ইনিংস উপহারের স্বপ্ন ক্রমশ ফিকে হতে শুরু করে টিম ইন্ডিয়ার অন্দরমহলে।
হলও তাই। একে একে সাজঘরের পথ ধরলেন কুলদীপ, সিরাজ, অক্ষররা। ফলে বড় ইনিংস গড়ার স্বপ্ন অধরা রেখে টিম ইন্ডিয়ার প্রথম ইনিংস বান্ডিল হল ১৮৯ রানে। নেপথ্যে দুই প্রোটিয়া বোলার জানসেন ও হারমার। দুইজনে মোট সাত উইকেট নিয়েই কার্যত ভারতকে শেষ করে দিলেন।
কিন্তু একি হল, এর পরের দৃশ্যটা দেখলে তো আরও মন খারাপ হয়ে যাবে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের। কেউ কেউ হয়ত নিজের স্টোরেজ থেকে মনে করার চেষ্টা করতে লাগলেন শেষ কবে টেস্ট ম্যাচে ইডেনের পিচ এইরকম আচরণ করেছে। তাহলে কি পিচ কিউরেটর এখানেই যাদু করে রেখেছিলেন, যা এবার খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসল সকলের সামনে। নাকি আরও অনেক কিছু বাকি আছে!
প্রথম ইনিংসে মাত্র ৩০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে তাই শুরু থেকেই হয়ত কিছুটা অন্য স্ট্র্যাটেজিতে বেটিং করার ছক কষেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। কিন্তু পিচই যেখানে খেয়ালখুশি মত আচরণ করে, সেখানে তো বোলাররা সর্বেসর্বা হয়ে উঠবেন এটাই স্বাভাবিক।
স্কোরবোর্ডে মাত্র ১৮ রান ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই প্রোটিয়াদের শিবিরে প্রথম আঘাতটা হানলেন কুলদীপ। রিকেলটনকে ১১ রানেই থামিয়ে দিয়ে চায়নাম্যান শুরুটা করলেও বাকি কাজটা শনিবার ক্রিকেটের নন্দনকাননে করলেন জাড্ডু। ১১.৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২৭ রান দিয়ে চারটি উইকেট ঝুলিতে পুরে নিলেন তিনি। মার্করাম থেকে মুল্ডার, জর্জি, স্টাবসকে ফিরিয়ে দিলেন জাড্ডু। এখানেই যেন ব্যাটিং লাইন আপের কোমর ভেঙে গেল প্রোটিয়াদের।
তবুও দক্ষিণ আফ্রিকার একটাই শান্তি অধিনায়ক বাভুমা এখনও অপরাজিত রয়েছেন ২৯ রানে। সঙ্গে রয়েছেন জানসেন। এই জুটির ওপরই নির্ভর করছে আর কত দূর এগিয়ে যেতে পারবে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর তাঁরা চটজলদি যদি ফিরে যান সাজঘরে, তাহলে হয়ত লাঞ্চের আগেই ক্রিকেটের নন্দনকাননে তেরেঙ্গা পতাকা উড়িয়ে সেলিব্রেশনে মাতবেন শুভমনরা।