চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে ভারত। ইডেন গার্ডেনে সেই জয়ের পর উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু উল্লাসের আড়ালে রয়ে গেছে বেশ কিছু অস্বস্তির প্রশ্ন। টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্স খুঁটিয়ে দেখলে বোঝা যায়, ভারত এখনো পূর্ণতা পায়নি। বড় ম্যাচের আগে তাই হারের ছয়টি সম্ভাব্য কারণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
১) টপ অর্ডারের অনিয়মিত শুরু
টি-২০ ক্রিকেটে শক্ত ভিত গড়ে দেয় ওপেনার ও তিন নম্বর ব্যাটার। কিন্তু জিম্বাবোয়ে ম্যাচ বাদ দিলে ভারতের প্রথম চার ব্যাটারের মধ্যে ধারাবাহিকতা নেই। কেউ একজন রান পেলেও বাকিরা ব্যর্থ হচ্ছেন। ফলে মাঝের সারির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। বড় দলের বিরুদ্ধে এমন অস্থিরতা বিপজ্জনক।
২) সূর্যের ছন্দে ভাটা
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ঝলমলে ইনিংস খেললেও তার পর থেকে ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমাত যাদব নিজের স্বাভাবিক ছন্দে নেই। স্ট্রাইক রেট কমেছে, বিশেষ করে বাঁহাতি স্পিনারদের বিরুদ্ধে তিনি অস্বস্তিতে পড়ছেন। প্রতিপক্ষ তাঁর অফ-সাইডের ফাঁক বন্ধ করে ফ্লিক শট আটকে দিলেই চাপ বাড়ছে। দলের প্রধান ভরসা যদি মাঝপথে থেমে যান, সমস্যায় পড়বে ভারত।
৩) বরুণের ধার কমে যাওয়া
দুই বিশ্বকাপের মাঝের সময়ে দুর্দান্ত পরিসংখ্যান গড়েছিলেন বরুণ চক্রবর্তি। কিন্তু এবারের আসরে তাঁর ঘূর্ণিতে আগের মতো ভয় নেই। সুপার এইটে ইকোনমি বেড়েছে, উইকেট কমেছে। লেংথ ঠিক রাখতে না পারা এবং আত্মবিশ্বাসের টানাপোড়েন তাঁকে সাধারণ করে তুলছে। যে চার ওভারে ম্যাচ ঘোরানোর কথা, সেটাই এখন প্রতিপক্ষের রানের রাস্তা খুলে দিচ্ছে।
৪) একমাত্র ভরসা বুমরাহ জসপ্রীত বুমরাহ এখনও নির্ভরতার প্রতীক। কিন্তু অতিরিক্ত নির্ভরতা বিপজ্জনক। পাওয়ারপ্লেতে তাঁকে দেরিতে আনা কিংবা ডেথ ওভারে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া কৌশলগত ভুল হতে পারে। অন্য পেসাররা সমান সমর্থন দিতে না পারলে একা বুমরাহ কতটা সামলাবেন?
৫) ফিল্ডিংয়ের অবনতি
ক্যাচ ধরার সাফল্যের হার প্রত্যাশার তুলনায় কম। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সহজ সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে একাধিকবার। বড় ম্যাচে একটি ক্যাচই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিতে পারে। চাপের মুখে হাত কাঁপা ভারতের জন্য বড় সতর্কবার্তা।
৬) মানসিক চাপ ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি
তরুণদের মধ্যে দ্বিধা স্পষ্ট। অভিষেক শর্মার মতো ব্যাটার শুরুতে ব্যর্থ হয়ে আত্মবিশ্বাস হারিয়েছেন। শট নির্বাচনে ভুল, অস্থিরতা—সব মিলিয়ে মানসিক দৃঢ়তার অভাব চোখে পড়ছে। বড় মঞ্চে স্নায়ুচাপ সামলাতে না পারলে প্রতিভাও ম্লান হয়ে যায়।
সব মিলিয়ে ভারত সেমিফাইনালে উঠেছে ঠিকই, কিন্তু পারফরম্যান্সে অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে। দলগত সমন্বয়, কৌশলগত স্পষ্টতা এবং মানসিক দৃঢ়তা—এই তিন স্তম্ভ শক্ত না হলে বড় মঞ্চে হোঁচট খাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। এখন দেখার, সেমিফাইনালের আলোয় ভারত নিজেদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারে কি?