চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: জাতীয় স্তরের এক নাবালিকা শুটারকে যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগে বরখাস্ত করা হল জাতীয় শুটিং কোচ অঙ্কুশ ভরদ্বাজকে। তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করেছে হরিয়ানা পুলিশ। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্ত কোচকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর। দক্ষিণ দিল্লির ড. কর্ণী সিং শুটিং রেঞ্জে আয়োজিত একটি জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দিল্লি এসেছিলেন ১৭ বছরের ওই নাবালিকা শুটার। অভিযোগ, প্রতিযোগিতা শেষে পারফরম্যান্স বিশ্লেষণের অজুহাতে অভিযুক্ত কোচ অঙ্কুশ ভরদ্বাজ তাঁকে ফরিদাবাদের সূরজকুণ্ড এলাকার একটি হোটেলে ডেকে পাঠান।
নাবালিকার অভিযোগ, প্রথমে হোটেলের লবিতে কথা বলার আশ্বাস দেওয়া হলেও সেখানে পৌঁছনোর পর তাঁকে জোর করে অভিযুক্ত কোচ নিজের ঘরে নিয়ে যান। সেখানেই তাঁর সঙ্গে যৌন হেনস্থার ঘটনা ঘটে। এফআইআরে আরও দাবি করা হয়েছে, বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে খেলোয়াড়ির কেরিয়ার ধ্বংস করে দেওয়া এবং পরিবারের ক্ষতি করার হুমকিও দেন অভিযুক্ত।ঘটনার পর নাবালিকার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ফরিদাবাদের এনআইটি মহিলা থানায় মামলা দায়ের হয়। হরিয়ানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫১(২) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
ফরিদাবাদ পুলিশের জনসংযোগ আধিকারিক যশপাল যাদব জানান, ঘটনার দিনের হোটেলের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কল ডিটেল রেকর্ড, যাতায়াত সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য ফরেনসিক ও ইলেকট্রনিক প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হোটেল কর্মী ও ওই সময় সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের বয়ানও রেকর্ড করা শুরু হয়েছে। একাধিক তদন্তকারী দল গঠন করে দ্রুত তদন্ত এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।উল্লেখ্য, দেশের ১৩ জন জাতীয় স্তরের পিস্তল কোচের মধ্যে একজন ছিলেন অঙ্কুশ ভরদ্বাজ। ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (এনআরএআই) তাঁকে এই পদে নিয়োগ করেছিল। যৌন হেনস্থার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এর আগেও দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে একাধিক কোচের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। পরপর এই ঘটনায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নাবালিকা ও মহিলা ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।