চিত্রঃ সংগৃহীত
AK Bangla 24×7 Digital: গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে একের পর এক সাফল্যে নতুন ইতিহাস গড়ছে ভারত। কুস্তি, ব্যাডমিন্টন ও হকির মতো ইভেন্ট না থাকলেও বিভিন্ন খেলায় দুরন্ত পারফরম্যান্স করে পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে ভারত। বর্তমানে দেশের ঝুলিতে রয়েছে মোট ৩৯টি পদক। এর মধ্যে ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ। এখনও কয়েকটি ইভেন্ট বাকি থাকায় ৪০-এর বেশি পদক জয়ের আশাও উজ্জ্বল।
ভারতের সোনা জয়ের সূচনা করেন অলিম্পিক পদকজয়ী ভারোত্তোলক মীরাবাই চানু। মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে দেশের প্রথম সোনা জেতেন তিনি। অন্যদিকে, প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রথম পদক আসে প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে ঝান্ডু কুমারের ব্রোঞ্জ থেকে। এরপর ধীরে ধীরে পদকের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে ভারতীয় বক্সিং দল। এবার বক্সিং থেকেই এসেছে রেকর্ড ১০টি পদক। প্রীতি, জেসমিন, সাক্ষী, প্রিয়া, অরুন্ধতী, সচিন সিওয়াচ এবং অঙ্কুশ পাঙ্ঘাল সোনা জিতে দেশের গর্ব বাড়িয়েছেন। পাশাপাশি লাভলিনা বরগোহাঁই, জাদুমণি সিং ও নরেন্দর রুপো জিতে বক্সিংয়ে ভারতের আধিপত্য আরও স্পষ্ট করেছেন।
অ্যাথলেটিক্সেও একাধিক ঐতিহাসিক সাফল্য এসেছে। গুলবীর সিং এক আসরে দু’টি পদক জিতে নজির গড়েছেন। তিনি ১০ হাজার মিটারে রুপো এবং ৫ হাজার মিটারে ব্রোঞ্জ জিতে ভারতের দীর্ঘপাল্লার দৌড়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। তেজস্বিন শঙ্করও ডেকাথলনে ব্রোঞ্জ জিতে কমনওয়েলথ গেমসে এই ইভেন্টে ভারতের প্রথম পদক এনে দেন।
ভারোত্তোলন, জুডো ও প্যারা অ্যাথলেটিক্সেও ভারত ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছে। ঋষিকান্ত সিং, জ্ঞানেশ্বরী যাদব, হরজিন্দর কৌর, লাভপ্রীত সিংদের রুপো যেমন এসেছে, তেমনই অস্মিতা দে, হর্ষ সিং, সোমান রানা ও শর্মিলা ধানকার সোনা জিতে দেশের সাফল্যের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছেন। প্যারা অ্যাথলেটিক্সেও একাধিক পদক জিতে ভারত প্রমাণ করেছে, প্রতিভার কোনও সীমা নেই।
নীরজ চোপড়া, মুরলি শ্রীশঙ্কর, প্রবীণ চিত্রাভেল ও সর্বেশ কুশারের মতো তারকারাও রুপো জিতে পদক তালিকা সমৃদ্ধ করেছেন। পাশাপাশি যশবীর সিং, সীমা কালিরামনা, বিন্দিয়ারানি দেবী, উন্নতি শর্মাদের ব্রোঞ্জ ভারতের সংগ্রহকে আরও শক্তিশালী করেছে।
সব মিলিয়ে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ভারতের জন্য শুধু পদকের সাফল্য নয়, একাধিক নতুন ইতিহাস গড়ার মঞ্চও হয়ে উঠেছে। বাকি ইভেন্টগুলোতেও একই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এবারের আসর ভারতের অন্যতম সফল কমনওয়েলথ গেমস হিসাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।