ad
ad

Breaking News

Gautam Gambhir

দিল্লি-কলকাতা ম্যাচে গম্ভীর-আরপি সিংয়ের দীর্ঘ বৈঠকে বাড়ল জল্পনা

ম্যাচ চলাকালীন গম্ভীরকে ভারতীয় দলের নির্বাচক আরপি সিংয়ের পাশে বসে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে দেখা যায়।

gautam-gambhir-kkr-vs-dc-ipl-buzz

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: দিল্লির মাঠে কেকেআর-ডিসি ম্যাচ ঘিরে শুক্রবার বাড়তি কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন গৌতম গম্ভীর। ভারতীয় দলের প্রধান কোচকে গ্যালারিতে বসে ম্যাচ দেখতে দেখা মাত্রই সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয়ে যায় জোর আলোচনা। কারণ কলকাতার মেন্টর হিসাবে ২০২৪ সালে দলকে খেতাব জেতানোর পর এই প্রথম কোনও আইপিএল ম্যাচে তাঁকে মাঠে উপস্থিত থাকতে দেখা গেল।

ম্যাচ চলাকালীন গম্ভীরকে ভারতীয় দলের নির্বাচক আরপি সিংয়ের পাশে বসে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে দেখা যায়। শুধু তাই নয়, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লার সঙ্গেও আলাদা করে আলোচনা করতে দেখা যায় তাঁকে। এই ছবি সামনে আসতেই সোশাল মিডিয়ায় শুরু হয় নানা জল্পনা। অনেকেই মনে করছেন, চলতি প্রতিযোগিতায় নজরকাড়া পারফরম্যান্স করা কয়েকজন ক্রিকেটারকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

চলতি মরশুমে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচকেরা একাধিক ম্যাচে মাঠে উপস্থিত থেকে তরুণ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখছেন। সেই কারণেই গম্ভীরের উপস্থিতি আরও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ক্রিকেটমহলে।

শুক্রবারের ম্যাচের শুরুতে অবশ্য ছন্দে ছিল দিল্লি। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে শুরু করেন পাথুম নিশাঙ্কা। ইনিংসের প্রথম দিকেই তিনি বাউন্ডারি ও বড় শট মেরে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেন। অন্যদিকে কেএল রাহুল-ও ধীরে ধীরে হাত খুলতে শুরু করেছিলেন। প্রথম উইকেটে দু’জন মিলে দলকে ভাল ভিত গড়ে দেন।

কিন্তু পাওয়ার প্লের পর থেকেই ম্যাচের রং বদলাতে শুরু করে। কলকাতা শুরু থেকেই নিজেদের স্পিন শক্তির উপর ভরসা রেখেছিল। অনুকূল রায় এবং সুনীল নারিনকে দ্রুত আক্রমণে আনা হয়। ধীরে ধীরে রান তোলার গতি কমিয়ে দেন তাঁরা। বড় শট খেলার সুযোগই পাচ্ছিলেন না দিল্লির ব্যাটাররা।

এরপর দ্রুত পরপর উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দিল্লি। কার্তিক ত্যাগী ফিরিয়ে দেন রাহুলকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্যামেরন গ্রিন আউট করেন নীতীশ রানাকে। সেই মুহূর্ত থেকেই ম্যাচ পুরোপুরি কলকাতার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

মাঝের ওভারগুলিতে স্পিনের জালে কার্যত আটকে পড়ে দিল্লি। বরুণ চক্রবর্তী এমন কড়া লাইন ধরে বোলিং করেন যে ব্যাটাররা রান তোলার পথই খুঁজে পাচ্ছিলেন না। চাপ বাড়তেই ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলতে বাধ্য হন দিল্লির ব্যাটাররা।

ফিরে এসে নারিন আরও বড় ধাক্কা দেন। সমীর রিজভি বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন। অন্যদিকে অর্ধশতরান পূর্ণ করার পরের বলেই অনুকূলের ঘূর্ণিতে ভুল করেন নিশাঙ্কা। উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে মারতে গিয়ে স্টাম্পড হয়ে ফিরতে হয় তাঁকে। একই ওভারে অনুকূল ফেরান ট্রিস্টান স্টাবসকেও। তাতেই বড় ধস নামে দিল্লির ইনিংসে।

একসময় এমন অবস্থা হয় যে দীর্ঘ সময় কোনও বাউন্ডারি পর্যন্ত আসেনি দিল্লির ব্যাট থেকে। সেই চাপ কিছুটা কাটানোর চেষ্টা করেন আশুতোষ শর্মা। তিনি কয়েকটি বড় শট মেরে ম্যাচে কিছুটা লড়াই ফেরানোর চেষ্টা করেন। একটি ওভারে টানা বাউন্ডারি মেরে রান তোলার গতি বাড়ান। পরে আরও একটি ছক্কা ও চার মেরে স্কোরকে কিছুটা সম্মানজনক জায়গায় পৌঁছে দেন।

তবে শেষ পর্যন্ত কলকাতার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে বড় রান তুলতে পারেনি দিল্লি। শুরুতে ভাল অবস্থানে থাকলেও মাঝের ওভারগুলোর চাপে ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায় তাদের। আর গ্যালারিতে বসে গোটা ম্যাচের ছবি মন দিয়ে দেখলেন গম্ভীর। তাঁর উপস্থিতি ও নির্বাচকের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ম্যাচের বাইরেও আলাদা করে নজর কেড়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের।