চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: মাঠের লড়াই এবার মাঠের বাইরে, তবে খেলার সৌজন্য ছাপিয়ে বিতর্কের রঙ এখন অতি ‘কুৎসিত’। যুবভারতীতে বৃহস্পতিবারের ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের একাংশের আনা একটি টিফোকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল ময়দানি রাজনীতি। যে টিফোতে জামশেদপুর পুলিশের ‘গুণগান’ গাইতে দেখা গিয়েছে, তা নিয়েই এখন নিন্দার ঝড় সবুজ-মেরুন শিবিরে। মোহনবাগান সমর্থকদের ওপর ভিন রাজ্যে হওয়া আক্রমণকে বাহবা দেওয়াকে ‘নোংরামি’ বলে তোপ দাগলেন মোহনবাগান সচিব সৃঞ্জয় বোস।
ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে জামশেদপুরে মোহনবাগান সমর্থকদের তিক্ত অভিজ্ঞতা। গত দু’বছর ধরেই সেখানে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন সবুজ-মেরুন ভক্তরা। সম্প্রতি জামশেদপুরের সমর্থকদের ছোড়া ইটে রাজীব রায় নামে এক মোহনবাগানির মাথা ফেটে ১০টি সেলাই পড়েছে। গত বছর আইএসএল সেমিফাইনালের সময়ও রিপন মণ্ডল, সৌরভ সরকারদের মতো বহু সমর্থক সেখানে আক্রান্ত হন। সেই সময় অভিযোগ উঠেছিল, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জামশেদপুর পুলিশ কেবল ব্যর্থই ছিল না, বরং তাদের ভূমিকা ছিল প্রশ্নাতীত। আর সেই পুলিশকেই ধন্যবাদ জানিয়ে লাল-হলুদ গ্যালারিতে টিফো পড়ল— ‘ওয়েল ডান জামশেদপুর পুলিশ। আসছে বছর আবার হবে।’
এই অমানবিক টিফো দেখে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বাগান সচিব সৃঞ্জয় বোস। তিনি স্পষ্ট জানান, “এমন নোংরামি আগে কখনও দেখিনি। ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের ওপর যদি কোথাও এভাবে আক্রমণ হয়, তবে আমাদেরও খারাপ লাগবে। মাঠের বাইরে আমরা সবাই তো বাঙালি! নিজেদের লোকেদের ওপর আক্রমণ নিয়ে এমন উল্লাস অত্যন্ত নিন্দনীয়।” সৃঞ্জয়বাবুর আক্ষেপ, বর্তমান প্রজন্মের একাংশের মধ্যে খেলোয়াড়ি মানসিকতার অভাব দেখা দিচ্ছে এবং বাঙালিদের মধ্যে ঐক্যটাই হারিয়ে যাচ্ছে।
যদিও এই ঘটনার পর ইস্টবেঙ্গলের সাধারণ সমর্থকদের বড় অংশও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই টিফোর নিন্দা করেছেন। সৃঞ্জয় বোস আশা প্রকাশ করেন যে, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন লাল-হলুদ সমর্থকরা এই আচরণের প্রতিবাদ করবেন এবং যাঁরা এই টিফো এনেছেন তাঁদের বোঝানো উচিত। ঘটি-বাঙালের লড়াই চিরকালই মাঠের ঘাসে সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু এবার তা আক্রোশের রূপ নেওয়ায় ময়দানের গরিমা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলেই মনে করছেন ক্রীড়া প্রেমীরা।