চিত্রঃ নিজস্ব গ্রাফিক্স
Bangla Jago Desk:সুপার কাপ খেলতে সোমবার সকালেই গোয়া উড়ে গিয়েছিল ইমামি ইস্টবেঙ্গল। দলের সঙ্গে গিয়েছিলেন গোলরক্ষক কোচ সন্দীপ নন্দীও। কিন্তু গোয়া পৌঁছেই অশান্তি দেখা দিল ইস্টবেঙ্গল শিবিরে। আইএফএ শিল্ডে হারের জন্য সন্দীপ নন্দীকে গোয়া এয়ারপোর্টে প্রকাশ্যে অপমান করেন অস্কার ব্রুজো। যা মন থেকে মেনে নিতে পারেননি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের আশিয়ানজয়ী প্রাক্তন গোলরক্ষক। অপমানিত হয়ে দলের গোলরক্ষক কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
এই বিষয়ে সন্দীপের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আইএফএ শিল্ডের ফাইনাল ম্যাচে দেবজিৎকে নামানো যে ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছিল তার জন্য অস্কারের কাছে আমি দুঃখপ্রকাশ করেছিলাম। কিন্তু সোমবার গোয়া পৌঁছে বিমানবন্দরে চিৎকার করে অস্কার যেভাবে আমাকে অপমান করেছেন তা মেনে নেওয়া যায় না। মান-সম্মান সকলের আছে। কাজেই আর এক মুহূর্ত দেরি না করে আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি।’
সন্দীপ ক্ষোভের সঙ্গে আরও জানান, ‘আমি ফুটবলার হিসেবে যতদিন খেলেছি সুনামের সঙ্গে খেলেছি। তারপর কোচ হিসেবেও চেষ্টা করি সব সময়ই নিজের সেরাটা দিতে। কোনওদিন অপমানিত হয়ে, মাথা নীচু করে কাজ করিনি আর করবোও না।’
এরপর অস্কারের সম্বন্ধে ক্ষোভ জানিয়ে সন্দীপ বলেন, অস্কার নিজেকে খুব বড় কোচ মনে করেন। আমার প্রশ্ন হল, যদি এত বড়ই কোচই হন, তাহলে ভারত বা বাংলাদেশে কেন কোচিং করাচ্ছেন? স্পেনে বা ইউরোপের কোনও ক্লাবে যান না কেন? আমি দেখতে চাই অস্কার লাল-হলুদকে কটা ট্রফি এনে দিতে পারেন।’ এবং গোটা ঘটনাটি তিনি ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার, এবং স্পনসর ইমামি কর্তাদের জানিয়েছেন বলেও জানান সন্দীপ।
উল্লেখ্য, আইএফএ শিল্ডের ফাইনাল ম্যাচের টাইব্রেকারের আগে গোলরক্ষক প্রভুসখন সিং গিলের পরিবর্তে দেবজিৎ ঘোষকে নামানোর জন্য অস্কারকে বলেন, গোলরক্ষক কোচ সন্দীপ নন্দী। ম্যাচে টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হতে হয় ইস্টবেঙ্গলকে। তারপরই সাংবাদিক সম্মেলনে এসে দেবজিৎকে নামানো প্রসঙ্গে অস্কার প্রকাশ্যে সাপোর্ট স্টাফদের দিকে আঙুল তুলেছিলেন। এবং বলেছিলেন এটা ভুল সিদ্ধান্ত। এবং এই ঘটনার পর থেকেই অস্কারের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে সন্দীপ নন্দীর। এখন দেখার সুপার কাপের আগেই দলের ড্রেসিংরুমের এই অশান্তির আঁচ অতিক্রম করে ইস্টবেঙ্গল সুপার কাপে কি রকম ফল করে তা সময়ই বলবে।