চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: অনেকেই হয়তো আবারও লিওনেল মেসির সঙ্গে তাঁর ‘গোট’ (GOAT) বিতর্ক টেনে আনবেন। বলবেন, পাঁচটা ব্যালন ডি’অর, পাঁচটা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কিংবা ইউরো কাপ থাকলেও রোনাল্ডোর ঝুলিতে তো বিশ্বকাপ নেই! কিন্তু ব্যঙ্গবাণ ছোড়ার আগে একটু থামুন। মাদেইরার এক দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে প্রতিদিন নিয়তি আর ঈশ্বরকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিশ্ব জয় করার নামই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। ২০ বছর ধরে যিনি ফুটবলবিশ্বকে বুঁদ করে রেখেছিলেন, স্পেনের বিরুদ্ধে ম্যাচটিই যে তাঁর ক্যারিয়ারের ‘শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ’ হতে চলেছে, তা তিনি আগেই আভাস দিয়েছিলেন। আজ সেই অমোঘ সত্যির সামনে দাঁড়িয়ে স্তব্ধ গোটা দুনিয়া। সময় বয়ে যাবে, কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে পর্তুগালের মেরুন জার্সির ৭ নম্বরের শূন্যস্থান কোনওদিন পূরণ হবে না।
খাতার পাতায় শুকনো পরিসংখ্যান বা রেকর্ডের মাইলফলক দিয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে মাপা অসম্ভব। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৪৬টি গোল এবং ক্যারিয়ারের ১০০০ গোলের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এই ফুটবলার আসলে আমাদের ‘প্রত্যাবর্তনের ম্যাজিক’ শিখিয়েছেন। যখনই রাতবিরেতে পর্তুগাল বা তাঁর ভক্তরা দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, তখনই ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এসেছে সিআর সেভেনের সেই ইস্পাতকঠিন হাত। সব না পেলেও যে একটা জীবনকে ‘আ ওয়াকিং ওয়ার্ক অফ আর্ট’ বানিয়ে তোলা যায়, রোনাল্ডো তার জীবন্ত প্রমাণ।

বয়স তাঁর চোখের কোণায় যতই ত্রিকোণমিতির ভাঁজ ফেলুক না কেন, তা ফুটবলার রোনাল্ডোকে আরও বেশি পরিপক্ক ও জেদি করে তুলেছিল। সারাজীবন সমালোচকদের ট্রোল আর ব্যঙ্গকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যিনি মাঠে হুঙ্কার দিয়ে বলতেন ‘আই অ্যাম ব্যাক’, আজ তিনি সত্যিই বড্ড শান্ত। ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কঠোর পরিশ্রম আর লড়াইয়ের যে রূপকথা তিনি লিখে গেলেন, তা যুগের পর যুগ ধরে যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করবে। বিশ্বকাপ ট্রফি অধরাই রয়ে গেল ঠিকই, কিন্তু প্রতিটি নতুন দিন লড়াই করার যে মানসিকতা তিনি ফুটবলকে দিয়ে গেলেন, তার চেয়ে বড় শিক্ষা আর কিছু হতে পারে না। বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় হে অগ্নিপুরুষ, বিদায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো!