চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: মধ্যরাতে কুরুক্ষেত্র। স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালের এল ক্লাসিকো সম্পর্কে এমনটা বলাই যায়। প্রথম দিকের নির্বিষ নিরুত্তাপ ম্যাচে যে এমন দুর্দান্ত মোড় আসবে, সেটা আগের থেকে বোঝাই যায়নি। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখল বার্সেলোনা।
স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনাল ম্যাচ ভারতীয় সময় মধ্যরাতে। ঘুম বাদ দিয়ে সেই ম্যাচের স্বাদ নিতে বসেছিলেন এ দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। প্রথম আধঘণ্টার ম্যাড়মেড়ে ম্যাচ দেখে যাঁরা টিভি বা মোবাইল বন্ধ করে দিয়েছিলেন, তাঁরা জানেন না কী ‘মিস’ করলেন। ৩৬ মিনিটের মাথায় বার্সেলোনা প্রথম গোলটি করে পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিল। ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনহার গোলে ১-০-তে এগিয়ে যায় বার্সা। কিন্তু তখনও অনেক গল্প বাকি। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে গোল হল মোট তিনটি। ৪৭ মিনিটে (৪৫+২) ডি বক্সে ঢুকে বার্সার দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে অনবদ্য গোল করে গেলেন ভিনসিয়াস জুনিয়র। সমতায় ফিরল রিয়াল। দু’মিনিট পরেই পেদ্রির পাস থেকে নিখুঁত গোল লেয়নডস্কির। ফের ৩-২-এ এগিয়ে যায় বার্সা। উত্তেজনা চরমে ওঠে তখন, যখন তার তিন মিনিটের মধ্যে গঞ্জালো গার্সিয়ার গোলে আবারও সমতায় ফেরে ‘লস ব্লাঙ্কোস’রা। একুশ শতকে এল ক্লাসিকোর ইতিহাসে প্রথমবার প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে তিন-তিনটি গোল দেখলেন ফুটবলপ্রেমীরা। প্রতি মুহূর্তে চরিত্র বদলানো থ্রিলারের মধ্যান্তরে স্কোরলাইন রইল ২-২।
এল ক্লাসিকোর প্রথম অর্ধের শেষ লগ্নে যেভাবে উত্তেজনার পারদ চড়েছিল, দ্বিতীয়ার্ধে সেই ঝাঁঝ কিছুটা হলেও উধাও। আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ চলছিল, কিন্তু কোনও দলই গোলের মুখ আর খুলতে পারছিল না। ৭১ মিনিটে ১০ গজ দূর থেকে ইয়ামালের শট বাঁচিয়ে দেন কোর্তোয়া। এর ঠিক এক মিনিট পরেই তৃতীয় গোলের দেখা পায় কাতালানরা। বলা চলে একক নৈপুণ্যে বার্সাকে ফের এগিয়ে দেন রাফিনহা। বক্সের ভিতর পা পিছলে পড়ে যাওয়ার আগে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারের শট আসেন্সিওর পায়ে লেগে রিয়ালের জালে জড়িয়ে যায়। এই নিয়ে বার্সেলোনার হয়ে শেষ পাঁচ ম্যাচে ৭টি গোল পেলেন রাফিনহা।
এরপর অবশ্য আর গোল হয়নি। বেশ কিছু সুযোগ পেলেও বার্সেলোনার গোলরক্ষক অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠায় সমতায় ফিরতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। তবে ৯০ মিনিট পেরনোর পর অতিরিক্ত সময়েও উত্তেজনা চরমে ওঠে। জয়ের প্রায় দোরগোড়ায় থাকা বার্সা মিডফিল্ডার কিলিয়ান এমবাপেকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন। তাতে অবশ্য কিছু ক্ষতি হয়নি তাদের। হ্যান্সি ফ্লিকের কোচিংয়ে চতুর্থ ট্রফি জয়ের স্বাদ পেল বার্সেলোনা।