চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ২০২৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছে ভারত। এমন সাফল্য অর্জন করেছে, যা আগে বিশ্বের আর কোনও দল করতে পারেনি। দলের কোচ গৌতম গম্ভীর প্রশংসার আলোয় থাকলেও পর্দার আড়ালে থেকে বড় ভূমিকা পালন করেছেন নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগরকর। একের পর এক সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন দিশা দেখিয়েছেন। দল গঠনের সময় আগরকর এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা নিয়ে শুরুতে বিতর্ক কম হয়নি। টি-২০ বিশ্বকাপের দলে শুভমন গিলকে না রাখা তার অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত। ভারতের সহ-অধিনায়ক হওয়া সত্ত্বেও গিলকে বাদ দিয়ে নির্বাচকরা দলে জায়গা দেন ঈশান কিসান ও রিঙ্কু সিংকে। দল পরিচালনায় গৌতম গম্ভীর গিলকে রাখতে চাইলেও আগরকর নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল পরিষ্কার—ভারতীয় ক্রিকেটে প্রতিভার অভাব নেই, তাই কাউকে না কাউকে বাদ পড়তেই হবে।
অধিনায়ক নির্বাচনেও একই রকম সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন আগরকর। রোহিত শর্মা টি-২০ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর অনেকেই মনে করেছিলেন হার্দিক পাণ্ডিয়াই স্বাভাবিক উত্তরসূরি। কিন্তু আগরকর জোর দিয়ে সূর্যকুমার যাদবের নাম সামনে আনেন। প্রথমে অন্য নির্বাচকরা কিছুটা দ্বিধায় থাকলেও পরে তাঁর যুক্তি মেনে নেন। আগরকরের মতে, এমন একজন অধিনায়ক দরকার যে প্রায় সব ম্যাচেই দলে থাকবে এবং নেতৃত্ব দিতে পারবে। ঈশান কিসানের দলে প্রত্যাবর্তন নিয়েও আগরকর বাস্তববাদী মনোভাব দেখিয়েছিলেন। অতীতের কিছু বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও তাঁর পারফরম্যান্স এবং সাদা বলের ক্রিকেটে ওপেনার হিসেবে দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। আগরকর স্পষ্ট করে বলেন, আগে ঋষভ পন্থ ও ধ্রুব জুরেলের মতো ক্রিকেটারদের জন্যই ঈসান দলে সুযোগ পাননি।
নির্বাচক প্রধান হিসেবে আগরকর শুধু দল বাছাই করেননি, কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারও এনেছেন। বড় সিদ্ধান্তের পরে সংবাদ সম্মেলন চালু করা কিংবা ক্রিকেটারদের আবার ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে উৎসাহ দেওয়ার মতো পদক্ষেপ তারই ফল। ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের পর গৌতম গম্ভীর নিজেই স্বীকার করেছেন আগরকরের অবদান। তাঁর কথায়, এত সমালোচনা সহ্য করেও সততার সঙ্গে কাজ করে গেছেন আগরকর, তাই এই ট্রফি তাঁরই প্রাপ্য। আজ ভারতের সাফল্যের দিকে ফিরে তাকালে স্পষ্ট বোঝা যায়—সাহসী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তই তৈরি করেছে ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন স্বর্ণযুগ। আর সেই পথের অন্যতম স্থপতি অজিত আগরকর।