চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: জাতীয় নির্বাচকপ্রধান পদ থেকে এখনই সরতে হচ্ছে না অজিত আগরকরকে, মেয়াদ শেষ হলেও তাঁকে আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্বে রাখতে চাইছে বিসিসিআই। বোর্ড সূত্রের খবর অনুযায়ী নির্বাচকমণ্ডলীর প্রধান হিসাবে তাঁর পারফরম্যান্সে যথেষ্ট সন্তুষ্ট কর্তারা, তাই নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়েও তাঁকে দায়িত্বে রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, ইতিমধ্যেই আগরকর নিজেও আবেদন করেছিলেন যেন তাঁর মেয়াদ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাড়ানো হয় এবং সেই প্রস্তাবই এখন কার্যত মেনে নেওয়ার পথে বোর্ড, ফলে জুন মাসে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার সম্ভাবনা জোরাল হল এবার।
২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে জাতীয় নির্বাচক প্রধান হিসাবে দায়িত্ব নেন আগরকর। চেতন শর্মাকে বিতর্কিত পরিস্থিতিতে সরানোর পর চাপের মুখেই তাঁর আগমন। শুরু থেকেই কঠিন পরীক্ষার সামনে পড়তে হয় তাঁকে। প্রথম বড় দায়িত্ব ছিল ঘরের মাঠে হওয়া ২০২৩ বিশ্বকাপের জন্য দল নির্বাচন। সেই সময় থেকেই ধাপে ধাপে নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে শুরু করেন জাতীয় দলের প্রাক্তন এই পেসার। এরপর একের পর এক আইসিসি টুর্নামেন্টে দল বেছে ধারাবাহিক সাফল্য এনে দিয়ে নিজের নির্বাচনী দক্ষতা প্রমাণ করেছেন তিনি।
আগরকরের আমলে ভারতীয় দল মোট চারটি আইসিসি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে তিনটিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, ২০২৪ এবং ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও খেতাব জিতেছে ভারত। শুধু তাই নয়, এই সময়ের মধ্যে এশিয়া কাপেও একাধিকবার সাফল্য এসেছে। একমাত্র ব্যতিক্রম ২০২৩ ওডিআই বিশ্বকাপ। যেখানে ফাইনালে পৌঁছেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে রানার্স হতে হয়। তবুও সামগ্রিক হিসাবে দেখলে চারটির মধ্যে তিনটি বড় ট্রফি জয় এবং একটিতে ফাইনাল খেলা— এই রেকর্ড যে কোনও নির্বাচকপ্রধানের জন্যই অত্যন্ত গর্বের, ফলে বোর্ডের আস্থা পাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
আগরকরের সময়েই ভারতীয় দলে একটি বড়সড় পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারের ওপর নির্ভরতা থাকলেও ধীরে ধীরে দলকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ এবং বহুমুখী করে তোলা হয়েছে। গৌতম গম্ভীর, সূর্যকুমার যাদব এবং শুভমান গিলদের মতো ক্রিকেটারদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ায় নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা নির্ভরতা কাটিয়ে দল এখন সমষ্টিগত পারফরম্যান্সে জোর দিচ্ছে। বিভিন্ন ফরম্যাটে আলাদা কৌশল ও দলগঠনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
ভারতীয় ক্রিকেটে নির্বাচকপ্রধান হিসেবে অতীতে দিলীপ ভেংসরকার ও কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তদের মতো বড় নাম থাকলেও তুলনায় অনেকটাই লো প্রোফাইল থেকে কাজ করেছেন আগরকর। কিন্তু পরিসংখ্যান এবং দলের সাফল্যই তাঁর কাজের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একটি স্থায়ী ও শক্তিশালী দল গড়ে তোলার যে প্রচেষ্টা তিনি চালিয়েছেন তা ইতিমধ্যেই ফল দিতে শুরু করেছে। এখন সামনে লক্ষ্য একটাই— ওয়ানডে বিশ্বকাপ, আর সেই মিশন সফল করতে আগরকরকেই ভরসা রাখছে বোর্ড।