চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: পাকিস্তানের প্রাক্তন পেসার মহম্মদ আমিরকে ঘিরে আবারও সামনে এল পুরনো স্পট ফিক্সিং কাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য। পাকিস্তানের প্রাক্তন অলরাউন্ডার আবদুল রাজ্জাক সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, ২০১০ সালের কুখ্যাত ২০১০ পাকিস্তান ক্রিকেট স্পট ফিক্সিং কাণ্ডের সময় সত্য স্বীকার করাতে আমিরকে সপাটে চড় মেরেছিলেন তৎকালীন পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদি। রাজ্জাকের কথায়, ইংল্যান্ড সফরের সময় এক বন্ধুর মাধ্যমে প্রথম গড়াপেটা চক্রের খবর পান তিনি। তাঁর সেই বন্ধু লন্ডনে মোবাইল ফোন মেরামতির কাজ করতেন। একদিন কুখ্যাত বুকি মাজহার মজিদ মোবাইল সারাতে এলে গভীর রাতে মেসেজ আদানপ্রদানের সময় তিন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের সঙ্গে স্পট ফিক্সিং নিয়ে কথোপকথনের প্রমাণ দেখতে পান। বিষয়টি তিনি সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্জাককে জানান। এরপর রাজ্জাক দ্রুত পুরো বিষয়টি আফ্রিদির কাছে পৌঁছে দেন।
রাজ্জাকের দাবি, তখন মাত্র ১৮ বছর বয়সি আমিরকে নিজের ঘরে ডেকে পাঠান আফ্রিদি। তাঁকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন এবং সত্য কথা বলতে চাপ দেন। কিন্তু প্রথমদিকে আমির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করতে থাকেন। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাজ্জাক জানান, তিনি তখন ঘরের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎই ভেতর থেকে আফ্রিদির রাগান্বিত চিৎকার এবং একটি জোরে থাপ্পড়ের শব্দ শোনা যায়। সেই শব্দ শুনে তিনি ঘরে ঢুকে পড়েন এবং দেখেন আমির মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এরপরই তিনি গড়াপেটায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি করেন রাজ্জাক। রাজ্জাক আরও বলেন, যদি তখনই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এবং টিম ম্যানেজমেন্ট দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিত, তাহলে ঘটনাটি এত বড় আকার নাও নিতে পারত। তাঁর মতে, সেই সময় কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার সলমন বাট, মহম্মদ আসিফ এবং আমিরকে জরিমানা করে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তদন্তে তিন ক্রিকেটারই দোষী সাব্যস্ত হন।
বয়স কম হওয়া এবং নিজের দোষ স্বীকার করার কারণে আমিরের শাস্তি কিছুটা কমানো হয়। নির্বাসনের মেয়াদ কাটিয়ে ২০১৫ সালে ঘরোয়া ক্রিকেটে এবং ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসেন তিনি। এমনকি ২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স পাকিস্তানের শিরোপা জয়েও বড় ভূমিকা রাখে।তবে সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেট বিশ্লেষক হিসাবে বিভিন্ন মন্তব্য করে আবারও বিতর্কে জড়িয়েছেন আমির। বিশেষ করে ভারতের পারফরম্যান্স নিয়ে তাঁর ধারাবাহিক সমালোচনার মাঝেই নতুন করে সামনে এল অতীতের সেই স্পট ফিক্সিং কাণ্ডের বিস্ফোরক দাবি।