চিত্র- সংগৃহীত
AK Bangla Desk: বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস, যৌন নির্যাতন এবং আপত্তিকর ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে চরম বিপাকে পড়লেন বাংলার তারকা ক্রিকেটার তথা দিল্লি ক্যাপিটালসের উইকেটকিপার-ব্যাটার অভিষেক পোড়েল। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি ছিল। শুনানির পর উচ্চ আদালত পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, অভিযুক্ত তারকা ক্রিকেটারকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। আদালতের এই কঠোর নির্দেশের পর ক্রিকেটমহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত জুন মাসে, যখন এক ডাক্তারি পড়ুয়া নিজের মায়ের সঙ্গে হুগলির মগরা থানায় গিয়ে অভিষেক পোড়েলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারিণীর দাবি, বিগত সাড়ে তিন বছর ধরে অভিষেকের সঙ্গে তাঁর নিবিড় প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাঁদের বিয়ে হওয়ার কথা চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু প্রায় দেড় বছর আগে তাঁদের সম্পর্কে মারাত্মক ফাটল ধরে। সেই সময় বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ালেও তরুণী কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেননি। তবে এবার ধর্ষণ, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেলিং এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সহবাসের মতো একাধিক মারাত্মক ও জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
প্রথম থেকেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছিলেন অভিষেক। তাঁর দাবি ছিল, ক্রিকেট মাঠে তাঁর সাম্প্রতিক ভাল পারফরম্যান্সের কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে হেয় করতেই এই মিথ্যা রটনা ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই পুলিশি তদন্তের গতি বাড়ে। গত ১৯ জুলাই হাই কোর্টের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল যে, এই মামলার তদন্তে পুলিশকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। তদন্তের স্বার্থে অভিষেকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ সমস্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দিয়েছিল উচ্চ আদালত।
মঙ্গলবার পুনরায় মামলার শুনানি হলে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশে অভিষেকের অস্বস্তি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। আদালত নির্দেশ দেয়, অভিযোগকারিণী তরুণীর বেশ কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও অভিষেকের কাছে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে, যা কোনওভাবেই যাতে সামাজিক মাধ্যমে বা অন্য কোথাও ফাঁস না হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। সেই কারণেই অভিষেকের সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্রিকেটার আগাগোড়া নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও, আদালতের এই চরম নির্দেশের পর তাঁর ওপর ঝুলছে গ্রেফতারের খাঁড়া।