ad
ad

Breaking News

David Gross

“আর মাত্র ৫০ বছর!”, নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর ভয়ঙ্কর ভবিষ্যদ্বাণী, পৃথিবী ধ্বংসের দিন কি ঘনিয়ে এল?

৩৫ বছরের মধ্যে মহাপ্রলয়? অঙ্ক কষে ধ্বংসের দিনক্ষণ শোনালেন নোবেলজয়ী ডেভিড গ্রস।

Nobel Laureate David Gross Warns Humanity May Not Survive 50 Years

চিত্র- এআই নির্মিত

Bangla Jago Desk: আগামী ৫০ বছরও কি টিকবে এই সভ্যতা? নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী ডেভিড গ্রসের একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার বিশ্বজুড়ে নতুন করে হইচই ফেলে দিয়েছে। যেখানে অধিকাংশ বিজ্ঞানী বিজ্ঞানের জয়যাত্রা নিয়ে আশাবাদী, সেখানে স্ট্রিং থিওরির জনক ডেভিড গ্রসের গলায় শোনা গেল চরম বিপদের সুর। তাঁর সাফ কথা, বিজ্ঞানের বড় কোনও আবিষ্কারের অভাব নয়, বরং মানুষের নিজেদের টিকে থাকার অক্ষমতাই হতে পারে এই সভ্যতার ধ্বংসের কারণ।

সম্প্রতি ‘লাইভ সায়েন্স’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রসকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে কি পদার্থবিজ্ঞান মহাবিশ্বের সমস্ত শক্তিকে একটি সূত্রে (Unified Theory) বাঁধতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তরেই বোমা ফাটান ৮৩ বছর বয়সী এই বিজ্ঞানী। তিনি জানান, গণিত বা বিজ্ঞানের জটিলতা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন; তাঁর বড় চিন্তা হলো, এই রহস্য সমাধানের জন্য মানুষ আগামী ৫০ বছর বেঁচে থাকবে কি না!

কেন এই আশঙ্কার কথা বলছেন গ্রস? তাঁর মতে, বর্তমানে পরমাণু যুদ্ধের বার্ষিক ঝুঁকি প্রায় ২ শতাংশ। অঙ্ক কষে তিনি দেখিয়েছেন, এই হারে চললে মানব সভ্যতার গড় আয়ু আর মাত্র ৩৫ বছরের আশেপাশে দাঁড়িয়ে আছে। অর্থাৎ, অধিকাংশ মানুষের অবসরের পরিকল্পনার চেয়েও কাছে দাঁড়িয়ে আছে ধ্বংসের দিন। শীতল যুদ্ধের সময়কার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিগুলো একে একে বিলুপ্ত হওয়া এবং বর্তমানে দুইয়ের বদলে নয়টি দেশের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকাকে চরম অস্থিরতার ইঙ্গিত বলে মনে করছেন তিনি।

পরমাণু অস্ত্রের সঙ্গে গ্রস যুক্ত করেছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর ভয়াবহতাকে। তাঁর আশঙ্কা, যুদ্ধের উত্তেজনায় যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মাত্র ২০ মিনিট সময় থাকে, সেখানে মানুষ হয়তো পুরোপুরি AI-এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “সিমুলেশন বা যুদ্ধ গেমগুলোতে দেখা গেছে, AI খুব দ্রুত পারমাণবিক হামলার পথ বেছে নেয়। কারণ AI ফলাফল অনুভব করতে পারে না, তারা কেবল জেতার জন্য প্রোগ্রাম করা। স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরমাণু হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যদি AI-এর হাতে চলে যায়, তবে ধ্বংস অনিবার্য।”

উল্লেখ্য, ডেভিড গ্রস পদার্থবিজ্ঞানের দুনিয়ায় এক কিংবদন্তি। কোয়ার্কের আচরণ নিয়ে তাঁর ‘অ্যাসিম্পটোটিক ফ্রিডম’ আবিষ্কার বিজ্ঞানের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। যার জন্য তিনি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। আইনিস্টাইনের উত্তরসূরি হিসেবে যিনি মহাবিশ্বের রহস্য খুঁজতে জীবন ব্যয় করেছেন, তাঁর মুখে এমন সতর্কবার্তা বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও ভাবিয়ে তুলেছে। তাঁর বার্তা স্পষ্ট, কূটনৈতিক সমঝোতা আর বিশ্বজুড়ে সংঘাত না থামলে, বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষ দেখার আগেই বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে মানবজাতি।