১) শুধু ভারতই নয়, গোটা বিশ্বেই রেলকে বলা হয় লাইফলাইন। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়, নির্দিষ্ট গন্তব্যে অসংখ্য যাত্রীদের পৌঁছে দেয় ট্রেন। এই বিশ্বে রয়েছে এমন অনেক রেল স্টেশন যা স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের নিদর্শন হিসাবে নজরকাড়া। সুন্দর রেলস্টেশন হল যে কোনো শহরের আইকনিক স্থাপত্য। যেমন, নিউইয়র্ক শহরের লোয়ার ম্যানহাটান এলাকায় রয়েছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ট্রান্সপোর্টেশন হাব। ৮ লাখ বর্গ ফুট এলাকা জুড়ে কাচ ও ইস্পাত নির্মিত সুদৃশ্য রেল স্টেশনের অপর নাম ওকিউলাস। ১১টি সাবওয়ে লাইন, PATH ট্রেন ছাড়ে এখান থেকে। ব্যাটারি পার্ক সিটি ফেরি টার্মিনাল রয়েছে। মেইন হলে রয়েছে সাদা রঙের মার্বেলের মেঝে ও ৩৫৫ ফুট উঁচু সুউচ্চ ঝাড়বাতি।
২) রোমের স্তাজিওন টারমিনি স্টেশনের পর ইতালির দ্বিতীয় বৃহত্তম রেল স্টেশন হল মিলানো সেন্ট্রাল রেল স্টেশন। ১৯৩১ সালে মিলান শহরের এই রেল স্টেশন জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। আদতে ওয়াশিংটনের ইউনিয়ন স্টেশনের আদলে গড়ে উঠলেও মুসোলিনি ক্ষমতায় আসলে রেল স্টেশনটিকে ফরাসি শিল্পের আদলে গড়ে তোলা হয়। ১ লাখ ১৮ হাজার বর্গ ফুট এলাকায় মার্বেল পাথরের মেঝে, পাথরের ভাস্কর্য রয়েছে।
৩) তুরস্কের ইস্তানবুলকে ইউরোপের প্রবেশপথ বলা হয়। ফরাসি শিল্প ও অটোমান সৌন্দর্যর অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায় সিরকেসি রেল স্টেশনের নির্মাণ শৈলীতে। ১৮৯০ সালে প্রথম বার রেল স্টেশন জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ৩০০টি গ্যাসের লণ্ঠন ও টালি অস্ট্রিয়া থেকে আমদানি করা হয় রেল স্টেশন নির্মাণের জন্য। প্যারিসের গার দ্য লিস্ত স্টেশন থেকে তুরস্ক পর্যন্ত চলাচল করত জনপ্রিয় ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস। সেই এক্সপ্রেস ছাড়ত এই স্টেশন থেকেই।
৪) মেলবোর্ন শহরে রয়েছে সার্দান ক্রস স্টেশন। আগে নাম ছিল স্পেন্সার স্ট্রিট স্টেশন। ২০০৫ সালে রেল স্টেশনের পুনর্নির্মাণের পর নয়া নাম দেওয়া হয়।
৫) জন ও ডোনাল্ড পার্কিনসন, পেশায় ছিলেন স্থপতি আর সম্পর্কে বাবা ও ছেলে। দুজনে মিলে স্প্যানিশ কলোনিয়াল ও আর্ট ডেকো স্টাইলে ১৯৩৯ সালে নির্মিত হয় লস এঞ্জেলস শহরের প্রধান রেল স্টেশন ইউনিয়ন স্টেশন। এটি পশ্চিম আমেরিকার বৃহত্তম প্যাসেঞ্জার ট্রেন টার্মিনাল।
৬) লন্ডনের ঐতিহাসিক কিংস ক্রস রেল স্টেশন বিখ্যাত স্থপতি লুইস কিউবিট নির্মাণ করেন। ১৮৫২ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হয়। ২০১২ সালে অলিম্পিকের সময় নতুন করে নির্মাণ করা হয়।
৭) নিউইয়র্কের গ্রান্ড সেন্ট্রাল স্টেশন আসলে ১৮৭১ সালে তৈরি করেছেন কর্নেলিয়াস ভান্ডারবিল্ট। সেই স্টেশন ১৯০৩ সালে ভেঙে ফেলা হয়। ১৯১৩ সালে নতুন করে গড়ে তোলা হয়। মার্বেল পাথরের সিঁড়ি আছে। দুধ সাদা রঙের ধাতু নির্মিত ঘড়ি আছে। সিলিংয়ে রয়েছে টেরাকোটা গুয়াস্তাভিনো টালি।
৮) আমস্টারডামের নিও রেনেসাঁ স্টাইলে নির্মিত সেন্ট্রাল স্টেশনকে বলা হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৃহত্তম রেল স্টেশন। গথিক স্থাপত্যর অপূর্ব নিদর্শন এই রেল স্টেশন জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয় ১৮৮৯ সালে। ডাচ স্থপতি পিয়ের কুইপার্স নির্মাণ করেন।
৯) ১৯৯৮ সালে পর্তুগালের রাজধানী লিসবন জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয় গারো দো ওরিয়েন্ট রেল স্টেশন। আধুনিক ও গথিক স্থাপত্য শৈলী দেখা যায় রেল স্টেশনের নির্মাণ শৈলীতে।