১) জ্ঞানের তৃষা সহজে মেটে না। তুষের আগুনের মতো মনের গভীরে তা ধিকিধিকি জ্বলতেই থাকে। সেই তৃষা মেটাতে সাহায্য করে বই। বিশ্বের সব সেরা বইয়ের ও গুরুত্বপূর্ণ পুঁথি, নথিপত্রর সম্ভার আমরা একজায়গায় গ্রন্থাগার বা লাইব্রেরিতে পাই। সেই অর্থে গ্রন্থাগার হল ইতিহাসের এক চলমান দলিল। ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে দেখা যায় লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগারের ইতিহাস প্রায় ৫ হাজার বছর পুরনো। লাইব্রেরি কথাটির উৎপত্তি লাতিন শব্দ 'লাইব্রেরিয়া' থেকে। এর অর্থ যেখানে বই রাখা হয়। আবার লাতিন শব্দ লিবারের অর্থ বই। প্রথম গ্রন্থাগার গড়ে ওঠে প্রায় ৫ হাজার বছর আগে দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়ায়। তবে বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো লাইব্রেরি হল 'দ্য লাইব্রেরি অফ আশুরবানিপল' যা তৈরি হয় আসিরিয়ান শাসক আশুরবানিপলের আমলে খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে। আজকের ইরাকের নিনেভেহ অঞ্চলে রয়েছে তা। ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময় ব্রিটেনে তৈরি হয় পাবলিক লাইব্রেরি। তবে ব্রিটেনের সবচেয়ে পুরনো পাবলিক লাইব্রেরি হল ম্যানচেস্টারের চেথাম'স লাইব্রেরি। ১৬৫৩ সালে নির্মিত হয়।
২) সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানান অসাধারণ সব গ্রন্থাগার যাদের বইয়ের সম্ভারের পাশাপাশি স্থাপত্য কীর্তিও অনন্য। যেমন, আল্পস পর্বতের কোলে অস্ট্রিয়ায় রয়েছে বইপ্রেমীদের স্বর্গরাজ্য অ্যাডমন্ট অ্যাবে লাইব্রেরি। এটিকে মনে করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো মনাস্টিক লাইব্রেরি। অসাধারণ স্থাপত্য কীর্তি। বারোক স্থাপত্যশৈলী অনুসারে ১৭৭৬ সালে নির্মিত। ভেতরে সাদা ও সোনালি রঙের ব্যবহার করা হয়েছে। সিলিংয়ে চিত্রকল্পের ব্যবহার নজরকাড়া।
৩) আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে অবস্থিত লাইব্রেরি অফ ট্রিনিটি কলেজ। লাইব্রেরির বুক অফ কেলস, লং রুম হল বইপ্রেমীদের স্বর্গরাজ্য। বিশ্বের অসাধারণ নানান বিখ্যাত বই এই গ্রন্থাগারে রয়েছে। উঁচু উঁচু বইয়ের শেলফ, কাঠের আর্চ দেখা যায়।
৪) জার্মানির স্টুটগার্টে সিটি লাইব্রেরির আধুনিক, মিনিমালিস্টিক স্থাপত্য নজরকাড়া। স্থপতি ইয়ুন ইয়াং ওয়াই এই লাইব্রেরি নির্মাণ করেন।
৫) আমেরিকার বাল্টিমোরে অবস্থিত জর্জ পিবডি লাইব্রেরি। ১৯ শতকে নির্মিত এই প্রাচীন গ্রন্থাগারকে বলা হয় 'ক্যাথিড্রাল অফ বুকস'। নিও-গ্রেকো স্থাপত্যশেলী অনুসারে নির্মিত। ৫ তলা কাস্ট আয়রন দ্বারা নির্মিত ব্যালকনি, সাদা-কালো মার্বেল পাথরের মেঝে ও বিশাল স্কাইলাইটের দৌলতে এটিকে অনায়াসে আমেরিকার সুদৃশ্য গ্রন্থাগার বলা যায়।
৬) চেক প্রজাতন্ত্রর রাজধানী প্রাগ শহরে রয়েছে লাইব্রেরি অফ স্ট্রাহভ মনাস্টেরি। গ্রন্থাগারের প্রাচীন অংশ বারোক থিওলজিকাল হল ১৬৭১-১৬৭৪ সালের মধ্যে তৈরি হয়। এটি বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো ঐতিহাসিক লাইব্রেরি। ২ লাখ ভলিউম বই রয়েছে। অনেক বই ১৫০১-১৮০০ সালের মধ্যে লেখা।
৭) মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায় প্রাচীন গ্রন্থাগারকে শ্রদ্ধা জানাতে তৈরি হয় বিব্লিওথেকা আলেকজান্দ্রিনা। প্রাচীন মিশরে যে জ্ঞানের আহরণ হত তাকে সম্মান জানানো হয়েছে আধুনিক গ্রন্থাগারের স্থাপত্য কীর্তির মধ্যে দিয়ে।
৮) ব্রাজিলের রাজধানী রিও দ্য জেনেরিওতে ১৮৩৭ সালে ৪৩ জন পর্তুগিজ শরণার্থী ও রাজনৈতিক শরণার্থী মিলে রয়্যাল পর্তুগিজ ক্যাবিনেট অফ রিডিং লাইব্রেরি তৈরি করেন। লিসবনের জেরোনিমোজ মনাস্টেরির আদলে নিও-গথিক স্থাপত্যশৈলী অনুসারে স্থপতি রাফায়েল দা সিলভা এ কাস্ত্রো তৈরি করেন এই গ্রন্থাগার।