গ্রাফিক্স: নিজস্ব
Bangla Jago Desk: ফরাসি ঔপন্যাসিক জুল ভার্নের পৃথিবী বিখ্যাত কল্পবিজ্ঞান বিষয়ক উপন্যাস হল ‘জার্নি টু দ্য সেন্টার অফ দ্য আর্থ’। ১৮৬৪ সালে ফরাসি ভাষায় এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত। এখনো নানান ভাষায় অনুবাদ হওয়া এই উপন্যাস সমান ভাবে প্রাসঙ্গিক ও জনপ্রিয়। পৃথিবীর সেন্টার বা কেন্দ্রস্থলে যাওয়ার কথা বললেই আমরা নস্টালজিক ও কল্পনাপ্রবণ হয়ে পড়ি। কিন্তু এ কোনো লেখকের কল্পনা নয়।
এই পৃথিবীতে বাস্তবেই রয়েছে কেন্দ্রস্থল বা সেন্টার অফ দ্য ওয়ার্ল্ড নামক একটি জায়গা। সাধারণত, ইকুয়েটর বা বিষুবরেখা বা প্রাইম মেরিডিয়ান লাইনকে পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল বলে ধরা হয়। কিন্তু পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল মাটির তলায় নয় ভূপৃষ্ঠে থাকার কথা কেউ ভাবতেই পারে না। কিন্তু বাস্তবেই ভূপৃষ্ঠে রয়েছে পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল বলে পরিচিত এক জায়গা। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত ফেলিসিটিকে অফিশিয়াল সেন্টার অফ দ্য আর্থ বলে মনে করা হয়।
কোথায় আছে ফেলিসিটি?
আমেরিকার দক্ষিণ পূর্ব ক্যালিফোর্নিয়ায় রয়েছে সোনোরান মরুভূমি। সেখানেই ছোট্ট একটা জায়গায় রয়েছে ফেলিসিটি, অফিশিয়াল সেন্টার অফ দ্য আর্থ। মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়ার সীমান্ত থেকে ১৫ মিনিট সড়ক পথে আর অ্যারিজোনার ইউমা থেকে ১১.৫ মাইল পশ্চিমে। ধূ ধূ মরুপ্রান্তরে ফেলে আসা অতীত, ভগ্নপ্রায় দশার শহরের জন্য বিখ্যাত সোনোরান মরুভূমি। কেউ বসবাস করে না এখানে। ১৯৮৫ সালে ফেলিসিটিকে সেন্টার অফ দ্য আর্থ বলে ঘোষণা করা হয়।
এখানে বসবাস শুরু করেন জাক-আন্দ্রে ইস্তেল ও ফেলিসিয়া লি নামে এক দম্পতি। তাঁরা ১৯৮৬ সালে জায়গাটিকে ফেলিসিটি টাউন হিসাবে গড়ে তোলেন। ফেলিসিয়ার নামে টাউনের নাম রাখা হয় ফেলিসিটি।
বর্তমানে ফেলিসিটিতে রয়েছে গির্জা, ২১ ফুট উচুঁ গোলাপি গ্রানাইট পাথরের তৈরি পিরামিড, মাইকেলঅ্যাঞ্জেলোর আম ডায়াল, আইফেল টাওয়ারের বিশাল ঘোরানো সিঁড়ি। তবে মূল আকর্ষণ হিস্ট্রি অফ হিউম্যানিটি। গ্রানাইট পাথরের ওপর পৃথিবীর ইতিহাসে মোড় ঘোরানো নানান ঘটনার কথা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
১৯৯১ সালে নির্মাণ করা হয় গ্রানাইট পাথরের তৈরি সুউচ্চ মিনার। বোমা বিস্ফোরণেও ধ্বংস হবে না পিরামিড। ৬ হাজার বছর টিকে থাকবে। পৃথিবীর গোলাকার আকৃতির জন্য অনেকেই মনে করেন ভূপৃষ্ঠের যে কোনো জায়গাকেই কেন্দ্রস্থল বা সেন্টার অফ দ্য আর্থ হিসাবে ধরা যায়। সেই ভাবনা থেকেই জাক আন্দ্রে ইস্তেল ক্যালিফোর্নিয়ার ইম্পেরিয়াল কাউন্টি বোর্ড অফ সুপারভাইজরের কাছে আবেদন জানান সোনোরান মরুভূমির ওপর নির্মিত তাঁদের ফেলিসিটি টাউনকে সরকারি ভাবে সেন্টার অফ দ্য আর্থ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার।