ad
ad

Breaking News

Sundarbans

বাঘের রাজত্বে রহস্যময় অতিথি! সুন্দরবনের গহীন জঙ্গলে দেখা মিলল অতি বিরল লেপার্ড ক্যাটের

এতদিন সুন্দরবনে আলাদা করে লেপার্ড ক্যাট গণনার কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

sundarbans-melanistic-leopard-cat-spotted-2026

চিত্রঃ সংগৃহীত

অমিত লাহা: নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে গোটা দেশের সঙ্গে সুন্দরবনেও শুরু হয়েছে বাঘ গণনার কাজ। এই কাজের জন্য সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়েছে ১৪৮৪ টি অত্যাধুনিক ক্যামেরা ট্র্যাপ, যা দিনে রাতে সর্বক্ষণ বাঘের ছবি তুলতে প্রস্তুত। ৪২ দিনের এই গণনা প্রক্রিয়ায় একাধিকবার এই ক্যামেরার ব্যাটারি বদল করতে হয়। এবং ক্যামেরায় ঠিকঠাক ছবি উঠছে কিনা তা দেখার জন্য বনকর্মীদের নিয়মিত সে বিষয়ে নজরদারি চালাতে হয়। জঙ্গলে যে জায়গায় ক্যামেরা ট্র্যাপ বসানো আছে বাঘকে সেখানে আকৃষ্ট করে নিয়ে আসার জন্য মাংসের টুকরোয় বিশেষ একধরনের রাসায়নিক মিশিয়ে কাঠের দন্ডে বেঁধে দেওয়া হয়।

মাংসের সঙ্গে বিশেষ এই রাসায়নিকের মিশ্রণের ফলে মাংসের দুর্গন্ধ এতটাই বেড়ে যায় যে তা ছড়িয়ে পড়ে সুন্দরবনের এক জঙ্গল থেকে আরেক জঙ্গলে। বাতাসে ছড়িয়ে পড়া সেই গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে বাঘ চলে আসে ক্যামেরা ট্র্যাপ বসানো আছে এমন জায়গায়। সম্প্রতি ক্যামেরার ছবি পর্যবেক্ষণ করার সময় বনকর্মীদের নজরে আসে বাঘের টোপ হিসেবে রাসায়নিক মেশানো মাংস খেয়ে যাচ্ছে বাজপাখি ও পেঁচা। এতে রীতিমতো চিন্তায় পড়েছে বনদফতর। কারণ বাঘের টোপ হিসেবে ব্যবহৃত মাংসে যদি অন্য পশু-পাখি ভাগ বসায় তাহলে বাঘকে আকৃষ্ট করে ক্যামেরা ট্রাপের কাছে নিয়ে আসা মুশকিল হবে।

সেক্ষেত্রে বাঘ গণনার প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। এতো গেল বাঘের ভোজে বাজের ভাগ বসানোর গল্প। এছাড়া এই ক্যামেরা ট্রাপে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির প্রাণী মেলানিস্টিক লেপার্ড ক্যাটের ছবি। যা দেখে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রাণী বিশেষজ্ঞ ও বনকর্মীদের মধ্যে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচারের রেড লিস্টে থাকা এই প্রাণীর অস্তিত্ব সুন্দরবনের জঙ্গলে বিরলতম হিসেবে ধরা হচ্ছে। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথমবার সুন্দরবনে ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরা পড়েছিল মেলানেস্টিক লেপার্ড ক্যাটের ছবি। তারপর এক যুগ পরে গত নভেম্বর মাসে সুন্দরবনের জঙ্গলে আবার দেখা মিলল এই প্রাণীর।

বনকর্মীরা আশা করছেন সুন্দরবনের জনবসতির কাছে যেসব জঙ্গল আছে যেমন, ধুলিভাসানি, হেরোভাঙা, এবং আজমলমারি এলাকায় মেলানেস্টিক লেপার্ড ক্যাটের ভালো বসতি রয়েছে। সুন্দরবনের জঙ্গলে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রাণী বাঘরোল বা ফিসিংক্যাট ও প্রচুর সংখ্যায় দেখতে পাওয়া যায়। বাঘরোলের খাদ্য মূলত মাছ। কিন্তু মেনানেস্টিক লেপার্ড ক্যাট মাছ ছাড়া বিভিন্ন ছোট প্রাণী, কীট, পতঙ্গ এবং পাখি শিকার করে খেয়ে থাকে। বাঘরোলের সঙ্গে লেপার্ড ক্যাটের মিল হল, এরা দুজনেই নিশাচর। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাত ৯.৩০ মিনিটে ক্যামেরা বন্দী হয়েছিল মেলানেস্টিক লেপার্ড ক্যাট। ২০২৫ সালে তার ছবি উঠেছে সন্ধে ৭টা থেকে রাত ৩ টের মধ্যে। এতদিন সুন্দরবনে আলাদা করে লেপার্ড ক্যাট গণনার কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রতিবার বাঘ গণনার কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরা পড়েছে এই বিরল প্রজাতির প্রাণীর ছবি।

মেলানেস্টিক লেপার্ড ক্যাট যেহেতু লাজুক এবং নিশাচর প্রাণী তাই এদের দেখা পাওয়া সহজ নয়। সুন্দরবনের জঙ্গলে বিরল প্রাণী মেলানেস্টিক লেপার্ড ক্যাটের সন্ধান পাওয়ার খবর যেভাবে সংবাদ ম্যাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তাতে আমজনতার পাশাপাশি ইতিমধ্যে নিশ্চয়ই চোরাশিকারীদের কাছেও পৌঁছে গেছে ভৌগোলিক অবস্থানের খুঁটিনাটি সহ। তাই নয় দফতরের উচিত যতদ্রুত সম্ভব জঙ্গলের গভীরে ঠিক কোথায় মেলানেস্টিক লেপার্ডের আস্তানা আছে তা চিহ্নিত করা ও তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উদ্যোগী হওয়া। না হলে চোরাশিকারী ও পশু পাচারকারীদের লোভ ও লালসার বলি হয়ে অচিরেই বিরল থেকে বিলুপ্ত প্রজাতির প্রাণীতে পরিণত হবে মেলানেস্টিক লেপার্ড ক্যাট।